সংবাদদাতা, লালবাগ: সেচদপ্তরের জায়গা জোর করে ঘিরে নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। ফলে ওই জায়গায় বসতি গড়ে তোলা বেশ কয়েকটি পরিবার বসতভিটে হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনায় রীতিমতো চাপা উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভগবানগোলা থানার মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নহরপাড়া এলাকায়। লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি রায় বলেন, সেচদপ্তরের জমি পঞ্চায়েত দখল নেওয়ার এক্তিয়ার নেই। বিষয়টি জানা নেই।খোঁজ নিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
জেলা সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানগোলা থানার বুধর কিসমত মৌজার ২৫১১,২৫১২ এবং ২৫১৩ দাগে সেচদপ্তরের প্রায় ২২ বিঘা জমি রয়েছে। ওই জমির একটি বড় অংশে চার দশক আগে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বেশ কিছু পরিবার বসতি গড়ে তোলে। ওই পতিত জমিতে সেচদপ্তরের মালিকানা বোর্ড জ্বলজ্বল করছে। অভিযোগ, সম্প্রতি মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য এমদাদুল হক এবং ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আললাম শেখ ওই জায়গা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেন। বস্তি এলাকায় এমনভাবে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে, তাতে কোন পরিবারের ঘর পড়েছে কাঁটাতারের একদিকে, তো শৌচালয় কিংবা রান্নাঘর পড়েছে কাঁটাতারের আরেক দিকে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গুলবানু বেওয়া বলেন, মেম্বার আমাদের কাছে টাকা চেয়েছিল। আমরা টাকা দিতে পারিনি বলে আমাদের দুয়ারের সামনে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া হয়েছে। মেম্বার ও প্রধানের স্বামী মাস খানেক ধরে হুমকি দিচ্ছিলেন টাকা না দিলে তোমরা শান্তিতে বাস করতে পারবে না। ইদ্রিস আলি ও আলি বলেন, আমরা সেচদপ্তরের জমিতে বাস করি। ওই দপ্তর থেকে কোনও নোটিস করা হয়নি। ওরা জোর করে আমাদের রান্নাঘর ভেঙে ফেলে তার পাশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এমনভাবে ঘেরা হয়েছে বাড়ি থেকে বের হতে গিয়ে বাচ্চা ছেলে মেয়ে জখম হওয়ার জোগাড়। সেচদপ্তরের জিয়াগঞ্জ বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার সুপ্রিয় দাস বলেন, এখনও ওই জমি সেচদপ্তরের আছে। ফলে পঞ্চায়েত কিংবা পঞ্চায়েত সদস্যরা দখল নিতে পারেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে দেওয়া হয়েছে। ছুটি কাটলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করা হবে। অবশ্য পঞ্চায়েত সদস্য এমদাদুল হক বলেন, জমিটি বেদখল হয়ে যাচ্ছিল তাই দখলমুক্ত করতে ঘেরা হয়েছে। ওখানে হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। টাকা চাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগ অসত্য। কারও কাছে কোনও টাকা চাওয়া হয়নি। ভগবানগোলার বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার বলেন, কলকাতায় রয়েছি। কী হয়েছে জানিনা। ফিরে খোঁজখবর নেব।



