Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষে নদীয়া

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে শীর্ষে নদীয়া
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ব্যবহারে রাজ্যে শীর্ষে নদীয়া জেলা। যা জেলার উন্নয়নের প্রমাণ।সম্প্রতি রাজ্য সরকার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে, কোচবিহারকে পিছনে ফেলে নদীয়া শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। মোট অর্থের প্রায় ৭৮ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। বৎসরান্তে জেলার পারফর্মেন্সে খুশি প্রশাসনের আধিকারিকরাও। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পাওয়া‌ কমিশনের প্রথম দফার টাকা‌ জানুয়ারির মধ্যে ব্লকগুলোকে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। উল্লেখ্য, রাজ্যের সেই তালিকায় শেষের দিকে রয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর, দার্জিলিং, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, পুরুলিয়া, মালদা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ। 
Advertisement
নদীয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) অনুপকুমার দত্ত বলেন, ‘অর্থ কমিশনের টাকায় জেলার উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত টাকা খরচের ব্যাপারে আমরা জোর দিচ্ছি। অর্থ কমিশনের নতুন বছরের টাকা আসার আগেই আমরা জেলাজুড়ে বিভিন্ন কাজের আগাম টেন্ডার করেছিলাম। যার ফলে টাকা ঢুকতেই দ্রুত কাজ করা গিয়েছ।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নদীয়া জেলার কাছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৩০৬ কোটি টাকা আছে। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৩৮ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ ৭৭.৮৩ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে।‌ যদিও এখনও পর্যন্ত কমিশনের ৬৮ কোটি টাকা পড়ে আছে। নদীয়া জেলাজুড়ে দৈনিক ৬৪ লক্ষ টাকা করে গড়ে খরচ করা হচ্ছে উন্নয়নের কাজে। অর্থ কমিশনের ৭৭.৮০ শতাংশ টাকা খরচ করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচবিহার জেলা। ৭৩.০৫ শতাংশ টাকা খরচ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর। তারপর কালিম্পং, হুগলি, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, বাঁকুড়া জেলা। 
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা নদীয়া জেলার কাছে ছিল। তারপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রথম দফার আরও ১০০ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা পায় নদীয়া জেলা। যার মধ্যে জেলার ১৮৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রথম দফার ৬৯ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা পেয়েছে। পাশাপাশি নদীয়া জেলা পরিষদ ও ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতি ১৫ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা করে পেয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে অর্থ কমিশনের প্রথম দফার টাকা শেষ করতে বলা হয়েছে। যাতে দ্বিতীয় দফার টাকা এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা যায়। 
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা পাঠানো হয় জেলাগুলোকে। যা দিয়ে সারাবছর উন্নয়নমূলক কাজ হয়। বছরে দু’ দফায় এই টাকা পাঠানো হয়। যদিও অর্থবর্ষের শুরুতে অর্থাৎ এপ্রিল-মে মাস করেই এই টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তা আসে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস নাগাদ। দ্বিতীয় দফার টাকা আসে অর্থবর্ষের শেষের দিকে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কমিশনের টাকা আসে পুজোর ঠিক আগে। 
সম্পর্কিত সংবাদ