Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ব্যয়ে পিছিয়ে বেলডাঙা ২ ব্লক

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ব্যয়ে পিছিয়ে বেলডাঙা ২ ব্লক
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গ্রামোন্নয়নের টাকা খরচের নিরিখে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে বেশ পিছিয়ে বেলডাঙা-২ ব্লক। জেলার ২৬টি ব্লকের মধ্যে ২৪ নম্বরে এই ব্লক। এদিকে বার বার টেন্ডার বাতিলের অভিযোগ উঠছে। যার ফলে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বহরমপুরের মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে বিডিওর দাবি, ওয়ার্ক অর্ডার নিতে না আসার জন্য সমস্যা হচ্ছিল। তাই ঠিকাদার সংস্থা যাতে এক সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার নেয় সেজন্য নতুন ক্লজ ঢোকানো হয়েছে। 
Advertisement
বার বার টেন্ডার বাতিল হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিরাও। তাঁদের দাবি, ব্লক প্রশাসন বার বার টেন্ডার বাতিল করছে। ১৩ জানুয়ারি একটি কাজের জন্য চারটি কোম্পানি টেন্ডার বিড করে। তবে মিনিমাম বিড রিসিভ না হওয়ায় সেই টেন্ডার ২৮ জানুয়ারি বাতিল করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিডিও এই টেন্ডার বাতিল করেছে বলেই অভিযোগ রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়কের প্রতিনিধির। 
বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায় বলেন, আমি এর আগেও টেন্ডার বাতিল নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেবার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলাম। বুধবারও ফের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাজের নিরিখে পিছিয়ে পড়া ব্লক ওটি। বারবার টেন্ডার বাতিল হলে কাজ তো পিছিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কেন বারবার টেন্ডার বাতিল হচ্ছে তা দেখার জন্য এবার আমি একজন প্রতিনিধিকে বিডিও অফিসে পাঠাব। রেজিনগরেরে তৃণমূল বিধায়কের প্রতিনিধি জামিল চৌধুরী বলেন, বিডিওর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। ওঁর জন্য কোনও আধিকারিকই এখানে কাজ করতে চাইছে না। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব করছেন। নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিতে তিনি টেন্ডার ক্যানসেল  করছেন বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। এটা নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন আছে। জেলার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয় জানাচ্ছি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তা পাঠানো হবে। 
তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে সব থেকে শেষে ৩৪৩ নম্বরে রয়েছে আমাদের ব্লক। জেলার মধ্যেও একদম শেষের দিকে। তার পরেও নির্দিষ্ট সংখ্যক বিডার থাকা সত্ত্বেও টেন্ডার বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে টেন্ডার করতেই আরও ২১ দিন সময় লাগছে। যার ফলে কাজ শুরু হতে আরও দেরি হচ্ছে। 
যদিও বেলডাঙা-২ ব্লকের বিডিও তুহিনকান্তি ঘোষ বলেন, কাজ নেওয়ার পর অনেকেই ওয়ার্ক অর্ডার নিতে আসছে না। তাই আমরা একটি ক্লজ সেখানে ঢোকাচ্ছি— সাত দিনের মধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার নিতে হবে এবং কাজ শুরু করতে হবে। আর যদি ওয়ার্ক অর্ডার না নেয় তাহলে তার ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করা হবে। একটি সংস্থা হয়তো পাঁচটি কাজ নিচ্ছে, সে একটি একটি করে কাজ করছে, সেজন্য কাজ আরও দেরি হচ্ছে। এভাবে কাজ হলে তো আমরা আরও পিছিয়ে পড়ব। আমাদের ব্লকে আগের পারফরমেন্স খুবই বাজে ছিল। গত তিনটি অর্থবর্ষের অনেক টাকাই আমাদের ব্লকে পড়েছিল। সেই অর্থ খরচ করা শুরু হয়েছে, আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছি। আমাদের স্থান জেলায় ২৬ নম্বর থেকে ২৪ নম্বরে উঠে এসেছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ