Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেনশন না মেলায় বিক্ষোভ অবসরপ্রাপ্তদের

পেনশন না মেলায় বিক্ষোভ অবসরপ্রাপ্তদের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া পুরসভার বর্তমানে ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থা। আর্থিক সঙ্কট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষ মেটাতে পারছে না। পেনশনের দাবিতে সোমবার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পুর ভবনে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা সেখানে অবস্থানেও বসেন। পরে কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের মধ্যে পেনশন মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেওয়া হয়। পেনশন না পেলে ফের পুরসভায় অবস্থানে বসা হবে বলে অবসরপ্রাপ্তরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পেনশনের পাশাপাশি ঠিকাশ্রমিকদের বেতনও বকেয়া হয়ে পড়েছে বলে কর্মীদের দাবি। শেষ কবে বাঁকুড়া পুরসভার এই ‘হাঁড়ির হাল’ হয়েছে, তা কর্মী-আধিকারিকরা মনে করতে পারছেন না।
Advertisement
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেনমজুমদার বলেন, নিজস্ব তহবিলের হাল খুবই খারাপ। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার দেয়। বাকি ৬০ শতাংশ পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে মেটানো হয়। টাকা না থাকায় এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পেনশন দেওয়া যায়নি। তবে আমরা সপ্তাহখানেকের মধ্যে সমস্যার সমাধান করব। ঠিকাশ্রমিকদের বেতনও ধীরে ধীরে মেটানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এদিন অবসরপ্রাপ্ত পুর কর্মীরা আমাদের না জানিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। কর্তৃপক্ষকে আগাম না জানিয়ে পুরসভার অন্দরে কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা যায় না। বিষয়টি সকলকে মাথায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।     
অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মী ভাস্কর সিংহ বলেন, প্রতি মাসের ৬ তারিখে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা ঢুকে যায়। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ দিন অতিক্রান্ত হলেও জানুয়ারির পেনশন আমাদের দেওয়া হয়নি। তা কেন দেওয়া হয়নি, তা এদিন আমরা পুর কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তহবিলে টাকা নেই বলে আমাদের জানানো হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেনশনের টাকা দেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সময়র মধ্যে পেনশন না পেলে পুরসভায় আমরা বসে থাকব। 
তিনি আরও বলেন, পেনশনের টাকায় অনেকে ওষুধ কেনেন। ওষুধের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে সময়ে পেনশন না পেলে চরম সমস্যা হয়। এর আগে ১৯৯৮ সালে তিন মাসের বেতন হয়নি। ওইসময় একমাস ধরে ধর্মঘট চলেছিল। তারপর থেকে আর সমস্যা হয়নি। এবার ব্যতিক্রম ঘটল।  
অবসরপ্রাপ্ত মালা অধিকারী বলেন, অবসর গ্রহণের সময় পাওনা গ্র্যাচুইটির সব টাকা আমাদের মেটানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই তা বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া টাকা দেওয়ার দাবিতেও এদিন সরব হয়েছি। তিন-চারবার আমরা পুর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু মিলছে না। অনেককে কিস্তিতে বকেয়া পাওয়া মেটানো হচ্ছে। দফায় দফায় টাকা পেয়ে তা কোনও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এককালীন টাকা পেলে অনেকেই বাড়ি তৈরি বা অন্যান্য বড় কাজ করতে পারবেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ