Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পনেরো হাজার বোতল কাশির সিরাপ সহ গ্রেপ্তার ২ কারবারি

পনেরো হাজার বোতল কাশির সিরাপ সহ গ্রেপ্তার ২ কারবারি
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: যোগীরাজ্য থেকে মাদক ঢুকছিল মুর্শিদাবাদে। অতিরিক্ত কোডাইন মিশ্রিত নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ সহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করল বহরমপুর থানার পুলিস। ধৃতরা হল কৃষ্ণ দেব ও সামাদ মোল্লা। কৃষ্ণর বাড়ি উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর এলাকায়। সামাদের বাড়ি বহরমপুর থানার কুদবাপুকুর এলাকায়। তবে বর্তমানে সে ডোমকলে থাকত। ধৃতদের ট্রাক থেকে ১৫ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি উত্তরপ্রদেশে তৈরি করা হয়েছিল। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বহরমপুর হয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঢুকছিল। গোপনসূত্রে সেই খবর পেয়ে পুলিস রবিবার গভীর রাতে বহরমপুর-জলঙ্গি রাজ্য সড়কে অভিযান চালায়। রাস্তায় ট্রাক আটকে তল্লাশি চালাতেই সিরাপের বোতল উদ্ধার হয়। ধৃতদের সোমবার বহরমপুরের বিশেষ মাদক আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। 
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে আমরা রাজ্য সড়কে অভিযান চালাই। একটি ট্রাকের ভিতরে লুকিয়ে ১৫ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচার করা হচ্ছিল। দুই কারবারিকে আমরা পাকড়াও করেছি। তাদের মধ্যে একজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে, সেটা তদন্ত করে দেখছি। 
শীত পড়তেই মাদক কারবারিরা কাশির সিরাপ পাচারের জন্য উঠে পড়ে নেমেছে। নানা কায়দায় সীমান্তবর্তী গ্রামের দিকে মাদক পাচার করার চেষ্টা হচ্ছে। এই মরশুমে পাচারকারীদের কাছে সব থেকে বেশি প্রিয় নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। বাংলাদেশে এখন ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কাশির সিরাপের। সেদেশে মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় কাশির সিরাপ ‘মাদক’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যুব সম্প্রদায়ের অনেকে এই সিরাপের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। ভারতে নিষিদ্ধ হওয়া বেশকিছু কাশির সিরাপ বাংলাদেশে পাচার করা হয়। মোটা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের চোরাচালানকারীরা এই সিরাপ কিনে নিয়ে যায়। সেখানে তা প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে। বিপুল মুনাফার কারণেই ভারতীয় সীমান্তে লাগাতার সিরাপ পাচারের চেষ্টায় রয়েছে দুষ্কৃতীরা।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে বহরমপুরের নগড়াজোল এলাকা থেকেও সাড়ে পাঁচ হাজার নিষিদ্ধ সিরাপের বোতল উদ্ধার হয়। কুয়াশার আড়ালে এই সিরাপ বাংলাদেশে পাচারের ছক ছিল দুষ্কৃতীদের। বহরমপুর থেকে বারবার সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, পাচারকারীরা নানা কায়দায় সিরাপ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। কখনও তারা ট্রাকে করে সিরাপ নিয়ে সোজা সীমান্তের গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে। আবার কখনও বহরমপুরের গোডাউনে সিরাপ মজুত করে পরে সুযোগ বুঝে সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে। তাই পুলিস কড়া নজরদারি রাখছে।
সম্পর্কিত সংবাদ