সংবাদদাতা, মানকর: পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় থেকে পানাগড় বাজারের পুরনো জাতীয় সড়কের দুই পাশে রয়েছে বহু গাড়ি সারাইয়ের দোকান। গাড়ি কাটাই থেকে মেরামত বিভিন্ন কাজের জন্য নাম রয়েছে এলাকার কাবাডি পট্টির। কিন্তু সেই মার্কেটকে কেন্দ্র করে চোরাই গাড়ি ধরা পড়া ও বেআইনিভাবে গাড়ির নম্বর ও চেসিস নম্বর বদল করার মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার পানাগড় বাজারের ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসে ছোট গাড়ির স্ক্র্যাপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আলাদাভাবে নতুন সংগঠন করার দাবি জানালেন। বিষয়টি নিয়ে কাঁকসা ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতির সঙ্গে বৈঠকও করেন তাঁরা। ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত বলেন, ওখানে ছোট ও বড় গাড়ির ব্যবসাদাররা একটি সংগঠন করতেন। এখন ছোট গাড়ির ব্যবসাদাররা আলাদা সংগঠন করতে চাইছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করতে চাইছেন। কিন্তু আমাদের দলীয় শৃঙ্খলা আছে। ওঁদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানাগড় বাজারে গাড়ি, স্ক্র্যাপ ও লোহা ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত হচ্ছেন। এতদিন বড় ও ছোট গাড়ির ব্যবসায় যুক্তরা সকলেই একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু একাধিক দুর্নীতি সামনে আসায় সংগঠনে ফাটল ধরেছে। ব্যবসায়ী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা একসঙ্গে ব্যবসা করতাম। ছোট গাড়ির প্রায় ৩০০ জন মানুষ রয়েছি। কিন্তু বড় গাড়ির ব্যবসায়ীরা আমাদের গুরুত্ব দিতেন না। তাছাড়া এখন বদনাম হচ্ছে। আমরা সেই বদনামের ভাগীদার হতে চাই না। এদিন বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেন, বড় গাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা ছাড়াও রাজ্য এবং ভিন রাজ্যের বিভিন্ন আকারের গাড়ি নিয়মিত পানাগড়ের এই বাজারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গাড়ির নতুন রূপ দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ মেরামত করা হয়। কখনও গাড়ি সম্পূর্ণ কাটাই করে বিক্রি করা হয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের মধ্যেই পরপর চোরাই গাড়ি ধরা ও চেসিস নম্বর বদলের ঘটনা সামনে আসে। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েকজনকে আটকও করে। তৃণমূল নেতা সন্দীপ রিঙ্কু মহল বলেন, মার্কেটে একের পর এক চুরির গাড়ি ধরা পড়ছিল। কিন্তু কোনও দোষ না করেও পানাগড়ের বাসিন্দা ছোট গাড়ির ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই তাঁরা নতুন সংঠন করতে চাইছেন। ওঁদের বাকি সমস্যাগুলিও দেখা হবে।



