Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পানাগড়ে হাই অ্যালার্ট 

পানাগড়ে হাই অ্যালার্ট 
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শাহদত মডিউলের মধ্যেই কি লুকিয়েছিল অশান্ত বাংলাদেশের চিত্রনাট্য? চলতি বছরের জুন মাস, বাংলাদেশে তখন ক্ষমতায় শেখ হাসিনার সরকার। তখনই পানাগড়ে বায়ুসেনার ঘাটির অদূরে পৈরাগপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় হাবিবুল্লাহ। সে-ই নাকি বাংলাদেশের এই জঙ্গি মডিউল ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার মাথা। তদন্তে উঠে এসেছিল, শেখ হাসিনা সরকার যেসব জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের জামিন করানোর জন্যই তৎপর ছিল ২০ বছরের কলেজ পড়ুয়া হাবিবুল্লাহ। পানাগড়েই ভারতীয় স্থল ও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি। বাংলাদেশের জঙ্গি নেতারা কি সেই কারণেই হাবিবুল্লাহকে মডিউলের মাথা করেছিল। জুন মাসেই প্রশ্নটা ভাবিয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। বাংলাদেশ উত্তপ্ত হ঩তেই তাই পানাগড় নিয়ে রেড অ্যালর্ট মুডে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা, পুলিস সেনাবাহিনী সকলেই।  সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনীর মহড়া যেমন চলছে তেমনি গোয়েন্দাদেরও অতি সক্রিয় করা হয়েছে। 
Advertisement
রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানে জোর দিয়েছিলেন। এবার সেই কথাই শোনা গেল এই স্থানীয় পুলি঩সের এক বড় কর্তার কথায়। তিনি জানিয়েছেন, জুন মাসের ঘটনার পরই আমরা বাড়তি সতর্ক হই। কেন্দ্র ও রাজ্যের গোয়েন্দারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ে জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে তা আরও বাড়ানো হয়েছে। 
বাংলাদেশ ও চীন সহ দেশের পূর্ব ভাগের নিরাপত্তা ইস্টার্ন কমান্ডের হাতে। তাঁদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ পানাগড় সেনা ছাউনি। হাজার হাজার সেনার পাশাপাশি অত্যন্ত উচ্চপদস্থ অফিসাররা রয়েছেন অবস্থানের গুরুত্ব অনুযায়ী। অত্যাধুনিক অস্ত্র থেকে সব সরঞ্জামই র঩য়েছে তাঁদের হাতে। বাংলাদেশে অশান্তি শুরুর পরই তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী গড় জঙ্গলে যুদ্ধের মহড়া দিয়েছেন। যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। সূত্রের খবর, সেনাবাহিনী অতি সক্রিয় মুডে রয়েছে। একই ভাবে পানাগড়ের আকাশে চক্কর দিচ্ছে যুদ্ধ বিমানও। বাহিনী যখন তাঁদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছে তখন পড়শি রাজ্যের দেশবিরোধীরা এলাকায় ঢুকছে কিনা তার জন্য গোয়েন্দাদের বজ্র আঁটুনি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পানাগড়ের কলেজ পড়ুয়া হাবিবুল্লাহকে যে ভাবে মগজ ধোলাই করে দেশবিরোধী কাজে নামিয়েছিল, তাতে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। 
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শুধু হাবিবুল্লাহ নয়, তাকে গ্রেপ্তারের পর গ্রেপ্তার হয় নদীয়ার নবদ্বীপের হারেজ শেখ। তাঁদের সঙ্গে কাশ্মিরের জঙ্গি যোগও পাওয়া গিয়েছিল। ঠিক বর্তমান পরিস্থিতি যেভাবে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের সঙ্গে পাকিস্তান যোগ মিলছে। এই পরিস্থিতিতে শাহদাত মডিউলের উপরও নজর রয়েছে পুলিসের। সেই কারণেই আরও বেশি করে হাই অ্যালার্টে রয়েছে পানাগড়।
সম্পর্কিত সংবাদ