সংবাদদাতা, বালুরঘাট: পিএম সূর্যঘর যোজনায় মাত্র ১০৫টি সংযোগ হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর টার্গেট ২৫ হাজার। কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম সূর্যঘর যোজনা নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রাথমিক ভাবে আগ্রহ দেখা গেলেও এখনও সংযোগের সংখ্যা খুবই কম। তাই মুখ্যমন্ত্রীর টার্গেট পূরণে এবার জেলায় জোর প্রচারে নামছে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। সূত্রের খবর, জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে পিএম সূর্যঘর যোজনায় প্রায় সাড়ে ৬৫০টি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাসে সংযোগ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০৫ টি!
এমাসে জেলায় মুখ্যমন্ত্রী ২৫ হাজার সংযোগের লক্ষ্য মাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। যা এই বছরের মধ্যে করতে হবে। ফলে কাজের অগ্রগতি ও লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিপুল ফারাক মেটাতে এবার জোরকদমে প্রচারে নামছে জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্লকে ব্লকে প্রচার শুরু হচ্ছে। জেলা ও ব্লক স্তরে এনিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জনকল্যাণমূলক সচেতনতা করতে এবার উদ্যোগ নিচ্ছে বিদ্যুৎ দপ্তর ও জেলা প্রশাসন। সরকারের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকদের নিয়ে জেলায় একটি মেগা বৈঠক হতে চলেছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মনম টি বলেন, পিএম সূর্যঘর যোজনায় প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা কম ছিল। সম্প্রতি প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৫ হাজার করেছেন। নতুন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিদ্যুৎ দপ্তর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এনিয়ে প্রচার চালানো হবে।
বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার বলেন, এখনও পর্যন্ত ১০৫টি সংযোগ হয়েছে।
প্রায় ৬৫০-র বেশি আবেদন পড়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৫ হাজার। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ব্লক ও বিভিন্ন স্তরে বিশেষ প্রচার চালানো হবে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পিএম সূর্যঘর প্রকল্প হল রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ফলে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করা যায়। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রযোজ্য নিয়মে গ্রিডে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ ভর্তুকি ব্যবস্থা করেছে সরকার। এক কিলোওয়াটের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা, দুই কিলোওয়াটে ৬০ হাজার টাকা ও তিন কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর বালুরঘাটে প্রশাসনিক সভায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিভিউ বৈঠকে তিনি বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে এই প্রকল্পটি নিয়ে জানতে চান। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের আগে প্রাথমিক টার্গেট ছিল চার হাজার ৭৭৪টি। প্রকল্পের অগ্রগতি জানার পর মুখ্যমন্ত্রী ওই টার্গেট এক ধাপে প্রায় ২৫ হাজার করে দিয়েছেন।
স্বাভাবিক ভাবেই এনিয়ে চাপে পড়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্লক স্তরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রকল্পের সুবিধা বোঝানো হবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল এক ধাপে বহু কমে যাবে। অনেকের বিদ্যুতের বিল শূন্য হতে পারে বলে জানাচ্ছেন প্রশাসন। তাই গ্রামাঞ্চল থেকে শহর সব জায়গাতেই বাড়ির ছাদকে সৌরবিদ্যুতের উৎসে পরিণত করার বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে প্রশাসন।