সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগপুর সফর। আর সেটা ঘিরেই এখন সংসদ ভবন, সরকার এবং দলের অন্দরেও কৌতুহল এবং আগ্রহ তুঙ্গে। আগামী কাল দিনভর মোদির ঠাসা কর্মসূচি মহারাষ্ট্র এবং ছত্তিশগড়ে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বিলাসপুরের নাম থাকলেও, যাবতীয় আলোচনা ও জল্পনা এখন নাগপুর ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রচারক মোদির বিপুল উত্থান হয়েছিল ২০০১ সালে। সেবারই প্রথম গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন তিনি। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর মোদি একবারও নাগপুরে সঙ্ঘের সদর দপ্তরে আসেননি। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি নাগপুরের রেশমি বাগের সদর দপ্তরে যাবেন। ঘটনাচক্রে এই বছরই আবার সঙ্ঘের শতবর্ষ। তাই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
মাধররাও সদাশিব রাও গোলওয়ালকরের নামাঙ্কিত চক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের নয়া শাখা উদ্বোধন করার জন্যই ১০ বছর পর মোদি নাগপুর যাচ্ছেন? নাকি এই উপলক্ষ্যে আদতে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গে কথা বলবেন? বিজেপির অন্দরে এই সরল ব্যাখ্যা কেউই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করছে না। সংসদ ভবনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এমপিদের আলোচনা আর জল্পনায় উঠে আসছে নানাবিধ তত্ত্ব। অন্যতম যে চর্চা চলছে সেটি হল, সেপ্টেম্বর মাসে মোদি ৭৫তম বর্ষ পূর্ণ করছেন। আর অক্টোবরের বিজয়া দশমীতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ পা দেবে ১০০ বছরে। মোদি ক্ষমতাসীন হয়ে অঘোষিত নিয়ম দলে চালু করেছেন, ৭৫ বছরের পর নেতানেত্রীরা চলে যাবেন স্বেচ্ছা অবসরে। যেভাবে পাঠানো হয়েছে লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলমনোহর যোশিদের। এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে অন্যদের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, সেটি মোদির জন্য নয় কেন? সেই কারণে মোদি সম্ভবত চাইছেন সঙ্ঘ থেকেই তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে যাওয়ার একটি অঘোষিত সিলমোহর আদায় করতে। যাতে দলের মধ্যে বার্তা যায় যে, সঙ্ঘই চায় মোদি ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে থাকুন। কিন্তু সঙ্ঘ ও মোদির মধ্যে কি ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরসূরি নিয়েও একান্ত আলোচনাও শুরু হচ্ছে? তারই রোডম্যাপ তৈরির সূত্রপাত আগামী কালের আনুষ্ঠানিক সফর এবং মোদি-ভাগবত বৈঠকে? বিজেপি সূত্রে মনে করা হচ্ছে মোদি নিজেই বার্তা দেবেন যে, ৭৫ বছর হয়ে যাচ্ছে, তিনি অবসর নেবেন। কিন্তু সঙ্ঘ কিংবা বিজেপি কেউ সেই প্রস্তাবে কর্ণপাত করবে না। সবটাই কি একটি নিখুঁত পরিকল্পনা?
যদিও সবরকম জল্পনায় জল ঢালতে সরকারিভাবে বিবৃতি জারি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়ে। আর তাই এই কর্মসূচিকে সরকারি অনুষ্ঠানের রূপ দিতে সঙ্ঘ দপ্তরে যাওয়ার আগে ও পরে একঝাঁক সরকারি অনুষ্ঠানে থাকবেন মোদি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই। মোদি এবং ভাগবতের মধ্যে একান্ত বৈঠক কী বিষয় নিয়ে?