সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: আজ, শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করতে তারকেশ্বরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারকেশ্বরের বালিগড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাওনারপাড় এলাকায় তারকেশ্বর-বৈদ্যবাটি রোডের পাশে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে। এর পাশাপাশি দিন রাজ্যজুড়েও এই দিবস পালিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চললেও ব্যাঘাত ঘটিয়েছে বৃষ্টি। শুক্রবার একটানা বৃষ্টিতে মূল সভাস্থল ছাড়াও বেশ কিছু অংশ জলমগ্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত স্টোন চিপ, বালি, ইট ইত্যাদি ফেলে মাঠকে কিছুটা উঁচু করা হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তারজন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোনো বাধা হবে না। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ প্রধানমন্ত্রী তারকেশ্বরে এসে পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সভায় লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হবে।
সব মিলিয়ে ওই মাঠে পাঁচটি হ্যাঙার (ছাউনি) টাঙানো হয়েছে। পাশেই তৈরি হয়েছে হেলিপ্যাড। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ অন্যান্য মন্ত্রী ও আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে। চন্দননগর ও তারকেশ্বরের বিধায়ক যথাক্রমে দীপাঞ্জন গুহ ও সন্তু পান শুক্রবার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। উপস্থিত ছিলেন হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। মূল মঞ্চ ফুল দিয়ে সাজানো হচ্ছে। এখন জোরকদমে কাজ চলছে। মেটাল ডিটেক্টর থেকে নিরাপত্তার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিন অস্থায়ী হেলিপ্যাডে ট্রায়াল রান হয়েছে। হেলিকপ্টার এসে নেমেছে এবং উড়েও গিয়েছে এখান থেকে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজি টিমও এদিন সভাস্থলে এসে পৌঁছেছে। চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জনবাবু বলেন, পূর্ত, বিদ্যুৎ, দমকল সহ সব দপ্তরের কর্মীরা একযোগে কাজ করছেন। মাঠ থেকে জল বের করার জন্য পাম্প বসানো হয়েছে। বালি, স্টোন চিপ ফেলা হয়েছে। আরও বালির ব্যাগ আনা হচ্ছে। তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান বলেন, প্রতিকূলতা আছে। কিন্তু সেটা কীভাবে জয় করা যায়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। দু’লক্ষেরও বেশি মানুষ এই সভায় আসবেন। একটা উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে তারকেশ্বরে।
১৯৪৭ সালে তারকেশ্বর রাজবাড়ি সংলগ্ন মাঠে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার সভাপতি ছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসাবে রাখার পক্ষে ভোটদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ওই অধিবেশন থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বিধানসভায় ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই দিনটিকে শ্রদ্ধা জানাতেই আজ তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন হবে। - নিজস্ব চিত্র