Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের উপর হামলার ঘটনায় ‘বড় মাথার’ খোঁজ, বিষ্ণুপুরে ভূমিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

পুলিসের উপর হামলার ঘটনায় ‘বড় মাথার’ খোঁজ, বিষ্ণুপুরে ভূমিদপ্তরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সোনামুখীতে বালি মাফিয়াদের হাতে সহকর্মীরা মার খাওয়ায় নিচুতলার পুলিস কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছে। পুলিসের একাংশ বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির পিছনে ভূমিদপ্তরের ‘নিষ্ক্রিয়তাকে’ দায়ী করেছে। বিষ্ণুপুর মহকুমাজুড়েই বালি মাফিয়া মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে পুলিস কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, বেআইনি বালি উত্তোলন সহ খাদানের যাবতীয় বিষয় ভূমিদপ্তরের দেখার কথা। অথচ ওই দপ্তর কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। ফলে দামোদর-দারকেশ্বরে বেআইনি বালি পাচার রমরমিয়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা হলেই পুলিসকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। 
Advertisement
উল্লেখ্য, বছর সাতেক আগে বাঁকুড়ায় দামোদর নদ থেকে বেআইনি বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায়। বাঁকুড়ার ভৌগলিক সীমানা থেকে বালি তুলে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানা এলাকা হয়ে পাচার করা হতো। তা নিয়ে বর্ধমান জেলায় পুলিস ও ভূমি দপ্তরের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে তা কার্যত দুই দপ্তরের ‘গৃহযুদ্ধে’র রূপ নেয়। বাঁকুড়াতেও ভূমি দপ্তর ও পুলিসের নিচুতলার মধ্যে ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে।  
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিষ্ণুপুর মহকুমার এক পুলিসকর্মী বলেন, সোনামুখীতে অভিযান শেষে থানায় ফেরার সময় মাঝরাস্তায় যেভাবে মাফিয়া আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের সহকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। আসলে জেলাজুড়েই বেআইনি বালির রমরমা দিনদিন বেড়ে চলেছে। তারফলে বৈধ খাদান মালিকদেরও ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অথচ এটা দেখার দায়িত্ব ভূমিদপ্তরের। কিন্তু, ওই দপ্তরের আধিকারিকদের ময়দানে সেভাবে দেখা যায় না। এভাবে বিষয়টি চলতে পারে না। জেলা প্রশাসনের বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। 
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক বিবেক দত্তাত্রেয় ভাসমে অবশ্য এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে ভূমি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বালি, মাটি পাচারের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিএলএলআরওদের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ঠিক নয়। 
সোনামুখী থানার পুলিসের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত ‘বড় মাথার’ খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে। এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনার দিন পুলিসের উপর হামলা চালানোর জন্য দুষ্কৃতীদের মদত দিয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি খোদ পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারিও স্বীকার করে নেন। এব্যাপারে সোনামুখী থানার এক আধিকারিক বলেন, আমরা হামলায় মদতদাতার খোঁজ চালাচ্ছি। পুরো ঘটনাটি তারই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল। এখনও পর্যন্ত হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ