সংবাদদাতা, কালিয়াচক: একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা অব্যাহত কালিয়াচকে। সোমবার রাতে ফের তিনজনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করল কালিয়াচক থানার পুলিস। ধৃতরা হল রাব্বিল শেখ, বাবুল শেখ ও তাকিউল বিশ্বাস। প্রত্যেকেই কালিয়াচক থানা এলাকার মোজমপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিস সূত্রে খবর, সোমবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় হানা দেয় কালিয়াচক থানার পুলিসের একটি দল। ঘণ্টাদুয়েক সাদা পোশাকে ওই এলাকায় ওত পেতে থাকেন পুলিসকর্মীরা। ধৃতরা টোটো থেকে বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় নামতেই তাদের আটক করে পুলিসের দলটি। তাদের তল্লাশি নিতেই উদ্ধার হয় দু’টি ওয়ান শটার ও দু’টি কার্তুজ। ধৃতদের গ্রেপ্তার করে কালিয়াচক থানায় নিয়ে যায় পুলিস। মঙ্গলবার ধৃতদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হলে সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
Advertisement
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খতিয়ে দেখা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র পাচারে আর কারা যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বালিয়াডাঙ্গা থেকে আগেও কয়েকবার আগ্নেয়াস্ত্র এবং ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে পুলিস। এলাকাটি জাতীয় সড়কের কাছাকাছি এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেফ করিডর হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা। স্থানীয় মকবুল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন এলাকাটি শান্তশিষ্ট থাকলেও ফের নতুন করে চোরাচালানের করিডর হয়ে দাঁড়িয়েছে বালিয়াডাঙ্গা থেকে সাহাবাজপুর প্রায় ৮ কিলোমিটারের রাস্তা। দু’পাশে আম ও লিচু বাগান থাকায় চোরাচালানকারীরা এই রুট বেশি ব্যবহার করছে। এছাড়াও অসামাজিক কার্যকলাপে ফের জড়িয়ে পড়ছে এলাকার কিছু মানুষ। পুলিসের হাতে ধরাও পড়ছে তারা। কিন্তু কয়েকমাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে ফের পাচার শুরু করছে চোরাকারবারীরা। পুলিস সূত্রে খবর, কয়েকমাস আগে মোজমপুর গ্রামে একটি খুনে জড়িত ধৃত তাকিউল। এফআইআরে তার নাম থাকায় আত্মগোপন করেছিল এতদিন। কিন্তু সম্প্রতি সে এলাকায় এসেছিল অস্ত্র পাচারের জন্য।



