Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের অভিযানে উত্তর মালদহে ঘাঁটি সরাতে সক্রিয় মাদক কারবারিরা

পুলিসের অভিযানে উত্তর মালদহে ঘাঁটি সরাতে সক্রিয় মাদক কারবারিরা
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মালদহ: ঘাঁটি বদলাচ্ছে মালদহের মাদক চক্র। পুলিসের রাডারে মাদক ভাণ্ডারগুলি প্রায় সবই চিহ্নিত হয়ে যাওয়া এবং লাগাতার ধরপাকড়ের ফলে বাধ্য হয়ে এবার ধীরে ধীরে ঘাঁটি পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে।
Advertisement
বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন অবাধ সক্রিয়তা ছিল এই মাদক পাচার চক্রের। বাংলাদেশে সুলভে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে এই সহজ অবস্থানই ছিল মাদক কারবারিদের প্রথম পছন্দ। কিন্তু সম্প্রতি পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দক্ষিণ মালদহের কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর এবং ইংলিশবাজারের গ্রামীণ এলাকা থেকে মাদক পাচারের ঘাঁটি ধীরে ধীরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উত্তর মালদহের বেশকিছু এলাকায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে মাদক পাচারের ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে যাবে বলে এই স্থানান্তর হচ্ছে, মনে করছে পুলিস। বিষয়টি নজরে আসতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে তারাও।
মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপকুমার যাদব বলেন, দক্ষিণ মালদহের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে মাদক পাচারকারীরা উত্তর মালদহের কিছু এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে আমাদের নজরে এসেছে। দক্ষিণ মালদহের যে এলাকাগুলিতে মাদক পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক ছিল, পুলিস তার প্রায় সবই ভেঙে দিয়েছে। তাই উত্তর মালদহের দিকে সরে যাওয়ার এই পরিকল্পনা চালাচ্ছে পাচার চক্র। কিন্তু পুলিস যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে পাচারকারীদের কোমর ভাঙতে মরিয়া।
এক সময় কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরের বেশকিছু প্রত্যন্ত এলাকায় আফিম চাষ করে হেরোইন, ব্রাউন সুগারের মতো মাদক তৈরির সলতে পাকানো হত। পরে মোটা মুনাফার প্রলোভনে মালদহের বিভিন্ন ব্লকে ক্রমশ বাড়তে থাকে আফিম চাষের পরিধি। উৎপাদনের প্রবণতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেলে নড়েচড়ে বসে মালদহের জেলা প্রশাসন ও পুলিস। ২০১৩ থেকে শুরু হয়ে যায় আফিম উৎপাদন বিরোধী অভিযান। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে মালদহের আফিম চাষের কারবারিদের নির্মূল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। আফিম চাষে মূলধন জোগানো অনেক কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে পরপর গ্রেপ্তার করতে জেলা পুলিস। যোগ্য সঙ্গ দেয় জেলা প্রশাসনও। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্পষ্ট বলে দেওয়া হয় এলাকায় আফিম চাষ রুখতে তাঁদের হাত গুটিয়ে বসে থাকার প্রমাণ মিললে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হতে পারে। সাধারণ প্রশাসন ও পুলিসের এই যৌথ সক্রিয়তায় আফিম উৎপাদন চক্র কার্যত ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয়ে যায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক আমদানি করে মালদহে সেগুলি প্রক্রিয়াকরণ করে বাংলাদেশে পাঠানো বা দেশের বাজারজাত করা।
পুলিস ও গোয়েন্দা বিভাগের সাঁড়াশি আক্রমণে কার্যত নাজেহাল হয়েই মাদক পাচার চক্র এবার উত্তর মালদহে ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে নজরে এসেছে পুলিস ও গোয়েন্দাদের। তাই কালক্ষেপ না করে উত্তর মালদহের বিভিন্ন থানার পুলিসও মাদক পাচার চক্রের সক্রিয়তা শুরুতেই রুখে দিতে ময়দানে নেমে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিসের এক পদস্থ কর্তা। 
সম্পর্কিত সংবাদ