Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের নজর এড়াতে ট্যুরিস্ট গাড়িতে চলছে মাদক পাচার

পুলিসের নজর এড়াতে ট্যুরিস্ট গাড়িতে চলছে মাদক পাচার
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মাদক কারবারীদের ছলের অভাব হয় না। বুধবার রাতে রায়গঞ্জে আটক হওয়া কোটি টাকা মূল্যের ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায় তা যেন আরও একবার প্রমাণিত হল। রায়গঞ্জ থানার তদন্তকারীরা রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছেন পাচারের নতুন পন্থা দেখে। দেখা যাচ্ছে শিলিগুড়ি-দার্জিলিংয়ের মধ্যে চলাচলকারী ‘ট্যুরিস্ট ক্যাব’ হিসাবে ব্যবহার হওয়া গাড়িকেই ব্রাউন সুগার পাচারের নয়া ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে পাচারকারীরা। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, সহজেই পুলিসের চোখে ধুলো দেওয়া। 
Advertisement
বুধবার গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে পানিশালা টোল প্লাজা এলাকা থেকে রায়গঞ্জ থানার পুলিস এক কেজির কিছু বেশি ব্রাউন সুগার সহ সুনীল সাহা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানা এলাকার বাসিন্দা। আটক হয় একটি গাড়ি, দু’টি মোবাইল। আদালত সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সুনীলকে জেলা আদালতে হাজির করা হলে ৫ দিনের পুলিস হেফাজতে পাঠান বিচারক। যেভাবে ধৃতের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছে, এর পিছনে বড়সড় চক্রের হাত থাকতে পারে বলে পুলিসের অনুমান। এছাড়াও কোথায়, কার কাছে মাদক যাচ্ছিল, কোন জায়গা থেকে কনসাইনমেন্ট পাচার হয়ে আসছিল, এমন বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিস। তাই হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয় আদালতে। 
বুধবার রাতের দিকে পানিশালা থেকে গাড়িটি থানায় এনে রাখা হলেও সেটি যে ট্যুরিস্ট ক্যাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তা তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে নজর এড়িয়ে যায়। বৃহস্পতিবার আটক হওয়া গাড়িটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতেই রহস্যভেদ করেন তদন্তকারীরা। তখনই স্পষ্ট হয় গাড়িটি আসলে একটি ট্যুরিস্ট ক্যাব হিসেবে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, ডুয়ার্সে চলাচল করে। গাড়িটি কার, কোথাকার গাড়ি, ইত্যাদি নানা বিষয় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। গাড়িতে লাগানো একটি সংগঠনের স্টিকারও পুলিসের সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রাউন সুগার পাচারকাণ্ডের তদন্তে মিলল প্রতিবেশী জেলা মালদহ ও মুর্শিদাবাদের যোগসূত্র। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার অনুসন্ধান। গত আগস্ট মাসে রূপাহার এলাকা থেকে রায়গঞ্জ থানার পুলিস পাঁচ লাখ টাকার ব্রাউন সুগার সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেবারও প্রতিবেশী জেলার মাদক কারবারীদের যোগ থাকার সম্ভাবনা খুঁজে পায় পুলিস। এবার পানিশালা থেকে মাদক উদ্ধারকাণ্ডেও প্রতিবেশী জেলার কারবারীদের যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রায়গঞ্জ থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, মাদক মামলার সবদিক খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ