নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সিট বেল্ট না থাকায় এক যুবককে মোটা টাকা জরিমানা করেছিল পুলিস। স্পটে দাঁড়িয়েই তড়িঘড়ি নিজের মোবাইল ফোনের ‘এম পরিবহণ’ অ্যাপে পুলিসের গাড়ির নম্বর দিয়ে সার্চ করেন অভিযুক্ত যুবক। দেখা যায়, পুলিস যে গাড়ি চেপে ঘুরছে সেই গাড়িরই ফিটনেসের মেয়াদ ফুরিয়েছে আড়াই বছর আগে। শুধু তাই নয়, ট্যাক্স, ইনসিওরেন্স থেকে পলিউশন সার্টিফিকেট— সবকিছুরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তা দেখা মাত্রই পাল্টা পুলিসকে জিজ্ঞেস করে বসলেন যুবক, ‘সিট বেল্ট ছিল না বলে আমাকে না হয় জরিমানা করলেন। কিন্তু আপনাদের গাড়িরও জরিমানা করুন।’ ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে পুলিস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ওই যুবক পুঞ্চা থানার ধাদকি গ্রাম থেকে বরাবাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে বোরো থানার পুলিস কুমারী নদীর পাশে দুয়ারসিনি এলাকায় যুবকের পথ আটকায়। সিট বেল্ট না পরার জন্য যুবকের জরিমানা করা হয়। এরপরই যুবক অনলাইনে সার্চ করে পুলিসকেই দেখিয়ে দেন যে, তাঁদের ব্যবহার করা গাড়িটিই রাস্তায় নামার যোগ্যতা হারিয়েছে। এরপরেই নিজের মোবাইলের ক্যামেরা চালু করে পুলিসের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন যুবক। ওই যুবককে পুলিস অফিসারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সিটবেল্ট পরিনি, ফাইন কেটেছেন, ঠিকই করেছেন। কিন্তু আপনার গাড়িরও জরিমানা করুন। আপনার গাড়ির তো ফিটনেস, ইনসিওরেন্স সবই ফেল।’ কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে পুলিস অফিসার যুবককে ভিডিও বন্ধ করতে বলেন বারংবার। যদিও যুবক সাফ জানিয়ে দেন, এই ভিডিও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করবেন। পুলিসের সঙ্গে তর্কবিতর্কের সেই ভিডিও এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ভিডিও দেখে পুলিসের বিরুদ্ধে সরব সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরাও। কমেন্টে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। সবাই প্রশ্ন তুলছেন, আইন কি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য? পুলিসের জন্য আইন কি আলাদা? তবে, এটি কোনও ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। পুরুলিয়া জেলা পুলিসে এরকম বহু গাড়িই রয়েছে, যাদের কাগজপত্র ঠিক নেই।



