Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের গাড়ি ইনসিওরেন্স, ফিটনেস ফেল, নেই পলিউশন সার্টিফিকেটও 

পুলিসের গাড়ি ইনসিওরেন্স, ফিটনেস ফেল, নেই পলিউশন সার্টিফিকেটও 
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট অনুযায়ী ইনসিওরেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো অপরাধ। জরিমানার পাশাপাশি শাস্তির বিধান রয়েছে আইনে। আইন রক্ষার্থে তৎপর ট্রাফিক বিভাগ। প্রতিদিনই শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি ধরে জরিমানার পাশাপাশি কেসও দিচ্ছে তারা। গাড়ির মধ্যে এলসিডি স্ক্রিন লাগিয়ে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইভ’ প্রচারও তুঙ্গে। কিন্তু যে গাড়িটি করে পুলিস প্রচার চালাচ্ছে, সেই গাড়িটিরই ইনসিওরেন্স ফেল। ফিটনেসও ফেল। যা নিয়ে জনগণের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিস বিভাগ। 
Advertisement
মোটর ভেহিকেল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৯ কার্যকর হয়েছে অনেক আগেই। সেই আইনে ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়। দুর্ঘটনা হলে ভুক্তভোগীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তাই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ইনসিওরেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। তেমনি মোটা টাকা ট্রাফিক ফাইন এড়ানোর জন্য এ঩টি থাকা জরুরি। 
বর্তমানে জাতীয় হোক বা রাজ্য সড়ক, নিত্যদিন দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। যার অধিকাংশই বাইক দুর্ঘটনা। অনেক জখম হচ্ছেন, কেউ বা মারা যাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়িগুলির ইনসিওরেন্স ফেল থাকায় ক্ষতিপূরণ মিলছে না। যে হারে দুর্ঘটনা বেড়ে গিয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন ট্রাফিক বিভাগ। তারা নাগরিকদের দায়বদ্ধ করে তুলতে লাগাতার অভিযান চালিয়ে আসছে। কখনও ট্রাফিক পুলিস দেখে চালক গাড়ি নিয়ে চম্পট দিলে নম্বর দেখে কেসও করছেন তাঁরা। পরে সেই গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ট্রাফিক পুলিস এখন যান নিয়ন্ত্রণের থেকে বেশি জরিমানা আদায়ের দিকে মন দিয়েছে। হেলমেট, সিট বেল্ট ছাড়া গাড়ি চালাতে দেখলেই নম্বর প্লেটের ছবি তুলে কেস করে দিচ্ছে। এক পুলিস অফিসার জানান, ইনসিওরেন্স ছাড়া গাড়িকে ২০০০ টাকা এবং এরপরে পুনরায় এই অপরাধের জন্য ৪০০০ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তিন মাসের জন্য কারাদণ্ডও হতে পারে। এদিন রামপুরহাট দুমকা রোডে ঝনঝনিয়া সাঁকোর উপর হঠাৎই চেকিং শুরু করে ট্রাফিক পুলিস। প্রায় ৩০টির মতো গাড়ি ও বাইককে জরিমানা করে। তাঁদেরই কেউ ট্রাফিক পুলিসের গাড়ির নম্বর দেখে আরটিও অ্যাপের মাধ্যমে সার্চ করে দেখেন, ট্রাফিকের গাড়িরই ইনসিওরেন্স ফেল হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট। অর্থাৎ সাত বছর ধরে গাড়িটির ইনসিওরেন্স পুনর্নবীকরণ হয়নি। একইভাবে ফিটনেস ফেল হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট। পলিউশনও নেই। এদিন জরিমানার কবলে পড়া অনেকেই বলছেন, সাধারণ মানুষ আইন ভঙ্গ করলে এবং গাড়ির কাগজ যদি সঠিক না থাকে তাঁর বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য করার অধিকার ট্রাফিক পুলিসের আছে। কিন্তু তাঁদের গাড়িগুলি দেখবে কে? এই গাড়িও তো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ কীভাবে মিলবে। আইনের ঊর্ধ্বে তো কেউই নয়। স্বভাবতই বিড়ম্বনায় পড়েছে ট্রাফিক পুলিস।   রামপুরহাট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গৌতম মণ্ডলের সাফাই, ওটা তো সরকারি গাড়ি। কোনও কিছু ফেল থাকলে তা দেখার দায়িত্ব ডিপার্টমেন্টের। আমাদের গাড়িটি সরকারিভাবে ব্যবহার করার জন্য দিয়েছে। আমাদের কিছু করার নেই।
সম্পর্কিত সংবাদ