সংবাদদাতা, পতিরাম: নাবালিকাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে পাঁচমাস ফেরার ছিল তৃণমূলের দাপুটে শ্রমিক নেতা রাকেশ শীল। পুলিস ওই নেতার খোঁজ করেও না পাওয়ায় হুলিয়া জারি করেছিল আদালত। পুলিসের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সেই মেয়াদের শেষদিন বৃহস্পতিবার ভোররাতে আত্মসমর্পণ করলেন রাকেশ। কোর্ট খুলতেই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালত সূত্রে খবর, এই মামলা শুরু হতেই রাকেশের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। তবে দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের শেষে জামিন খারিজ করে আদালত। শেষে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
Advertisement
বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী বলেন, পলাতক অভিযুক্ত এদিন আত্মসমর্পণ করেছেন। অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা বিচারক (দ্বিতীয় কোর্ট) তথা স্পেশাল কোর্টের (পকসো) বিচারক শরণ্যা সেন প্রসাদ জামিন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন। পুলিস ও আদালত সূত্রে খবর, গত ২৮ মে হিলি ব্লকের এক নাবালিকার মামি বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, ওই কিশোরী ও তার মামিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য থানা মোড়ের একটি দোকানের দ্বিতীয় তলায় ব্যক্তিগত চেম্বারে দু’জনকে ডাকেন রাকেশ। ১৫ বছর বয়সী নাবালিকাকে একা পেয়ে যৌন হেনস্থা করেন তিনি। এরপর থেকেই রাকেশ বেপাত্তা ছিলেন। পুলিস জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েও তার খোঁজ পায়নি। অবশেষে আদালত ২৩ সেপ্টেম্বর রাকেশের নামে হুলিয়া জারি করে। ৭ নভেম্বর সকাল দশটার আগে আত্মসমর্পণ না করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাই এদিন একেবারে ভোররাতে রাকেশ আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
এবিষয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, তৃণমূলের এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় থাকলে, আরেক গোষ্ঠীর ক্ষমতা লোপ পায়। তৃণমূল নেতা বলেই পুলিস পাঁচ মাস ধরে খুঁজে পায়নি। বিজেপি নেতা হলে ঠিক পেত। পাল্টা তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি সুভাষ চাকীর মন্তব্য, আইন আইনের পথেই চলবে। এখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল নেই। বিজেপির অন্দরেই বেশি লড়াই আমরা দেখতে পাই।



