Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের বাইক চুরি করে পালাতে গিয়ে ধৃত ইস্কোর মোটা বেতনের কর্মী

পুলিসের বাইক চুরি করে পালাতে গিয়ে ধৃত ইস্কোর মোটা বেতনের কর্মী
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গলায় ঝোলানো নীল রিবনে বড় করে লেখা ‘সেইল অথারিটি অফ ইন্ডিয়া’। ইস্কোর আইকার্ড গলায় ঝুলিয়ে পরিপাটি পোশাকে আদালতে চত্বরে ঘুরছিল সে। হাজতে গিয়েও দু’এক বার রেকি করেছে। পুলিস কর্মীরা প্রশ্ন করতেই উত্তর এসেছিল একজন পরিচিত গ্রেপ্তার হয়েছে। তার কিছু পরেই ‘ভদ্রলোকে’র পর্দা ফাঁস। হাজতের সামনে রাখা পুলিস কর্মীর বুলেট বাইক মাস্টার চাবি দিয়ে খুলে চম্পট দেওয়ার সময়েই পুলিস আইনজীবীদের তৎপরতায় হাতে নাতে ধরা পড়ে যায় সেই ‘ভদ্রলোক’। জানা গিয়েছে, তার গলায় ঝোলানো ইস্কোর কার্ডটি নকল নয়। সত্যিই এই চোর কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার উচ্চ বেতনের কর্মী। অটোমোবাইলের কাজ জানা সে-ই আবার দাগী বাইক চোর। সুযোগ বুঝে ভদ্রলোক সেজে ইস্কোর আইকার্ড ঝুলিয়ে রেকি করে বাইক নিয়ে চম্পট দেয় সে। তা বলে আসানসোল আদালত চত্বর থেকে খোদ পুলিস কর্মীর বাইক নিয়েই চম্পট দেবে, তা অনেকের কল্পনার বাইরে। 
Advertisement
ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, ইস্কোর কর্মী এক বা‌ইক চোর আসানসোল আদালত চত্বর থেকে বাইক চুরি করছিল। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। হীরাপুর থানার পুরুষত্তোমপুরের দেবদাস রা‌ই দীর্ঘদিন ধরেই ইস্কোর শ্রমিক। পুলিসের দাবি, তার বেতন ৬০ হাজার টাকারও বেশি। উচ্চ বেতনের চাকরি হলেও সে অত্যন্ত খিটখিটে স্বাভাবের। চুরি করার হাতটিও বেশ পাকা পোক্ত। নিমেষেই বাইক চুরি করে চম্পট দেওয়ার দক্ষতা রয়েছে এই ইস্কো কর্মীর। হীরাপুর থানাতেও বাইক চুরির ঘটনায় তার নাম জড়ায়। সেই দেবদাসই শনিবার হানা দিল আসানসোল আদালতে। আদালতের কর্মীদের দাবি, শনিবার ছুটির দিন থানায় অনেকটা ভিড় কম ছিল। দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে, এই আশাতে আদালত চত্বরে হাজতের সামনেই শখের বুলেট বাইকটি রেখেছিলেন পুলিস কনস্টেবল প্রদ্যুৎ ঠাকুর। সেটাকেই টার্গেট করে দেবদাস। প্রদ্যুতের গতিবিধি দেখতে হাজির হয়ে পড়ে হাজতেই। সেখানে পুলিস কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলে ইস্কোর কর্মী পরিচয় দিয়ে।  তারও কয়েক ঘণ্টা পর পকেট থেকে মাস্টার কী বের করে বুলেট নিয়ে স্টার্ট দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি নজরে আসে হাজতের ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ও অন্য পুলিস কর্মীদের। ধাওয়া করে তারা। চুরির ঘটনা বুঝতে পেরে আদালত চত্বরে বটতলায় আইনজীবীরাও রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন। ধরা পড়ে যায় ইস্কোর কর্মী। তারপরই নানা নাটক করতে থাকে সে। কখনও বলে, বাজারে পাঁচ লক্ষ টাকা ধার হয়ে গিয়েছে। অনেক সময়ে বলতে থাকে, পুলিস কর্মীটি দশ হাজার টাকা নিয়েও দিচ্ছিল না। তাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপর আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে। পুলিস সূত্রে খবর, অপরাধ জগতের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই জড়িয়ে দেবদাসের পরিবার।  অভিযুক্তর ছেলে একটি নাবালককে পুকুরের জলে ডুবিয়ে খুন করেছিল বলে অভিযোগ।
সম্পর্কিত সংবাদ