নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুলিস-প্রশাসনের একাংশকে ‘রামরেড’ বলে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম থানার সামনে দলের ডাকা প্রতিবাদ সভায় পুলিস ও প্রশাসনের ওই অংশকে সিপিএমের রেখে যাওয়া উচ্ছিষ্ট বলেও আক্রমণ করেন। সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই ওই অংশের মোকাবিলা করতে হবে বলে কর্মীদের নির্দেশ দেন। এদিনের সভায় কুণাল ঘোষ ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা কমিটির চেয়ারপার্সন চিত্ত মাইতি এবং ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। গত রবিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের কাণ্ডপসরা বাড় কাণ্ডপসরা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ভোট ছিল। ভোট শেষে বিজেপি কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন ব্লক তৃণমূল সভাপতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন সভা ছিল। প্রধান বক্তা ছিলেন কুণাল। প্রথমেই থানার সামনে এই সভা নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি। ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সমবায় ভোট হয়। হামলার ঘটনা সেখানেই হয়েছে। তাহলে ভেকুটিয়া পঞ্চায়েত এলাকা বাদে থানার সামনে এই কর্মসূচি কেন? প্রশ্ন তোলেন কুণাল। পুলিস অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে ভেকুটিয়াতেই সভা ডাকার নির্দেশও দেন তিনি। সেখানেও তিনি হাজির থাকবেন বলে জানিয়ে দেন। এদিন কুণাল তাঁর বক্তব্যে আগাগোড়াই নিশানায় রেখেছিলেন পুলিস প্রশাসনের একাংশকে। তিনি বলেন, আমরা সরকারে রয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, পুলিস প্রশাসনের একটা অংশ কমরেডের ভূমিকা নিচ্ছে। এরা সিপিএমের আমল থেকে রয়েছে। আগে কমরেড ছিল। এখন তারা রামরেড হয়েছে। ওরা মনে প্রাণে সরকারের ক্ষতি চায়। ভেতরে থেকে অন্তর্ঘাত করছে। সরকারের বদনাম করাচ্ছে। এরাই সিপিএমকে মদত দিচ্ছে। সিপিএমকে খুঁজে না পেয়ে বিজেপিকে মদত দিচ্ছে। পুলিস ভালো কাজ করছে। অধিকাংশ পুলিস ঠিকঠাক। কিন্তু, পুলিস ও প্রশাসনের ভেতরে কিছু বাছাই করা কমরেড রয়েছে। পুলিস-প্রশাসনের এই ‘রামরেড’দের মোকাবিলা করা হবে কীভাবে, তার পথ বাতলে দিয়েছেন কুণাল। তিনি বলেন, ‘দলের সংগঠন নিয়ে এদের মোকাবিলা করতে হবে। আজকে আমরা সরকারে আছি। ২০১১ সালের আগে গোটা সিপিএমকে মোকাবিলা করে সরকারে এসেছি। সিপিএমের রেখে যাওয়া উচ্ছিষ্টকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঘর সামলাতে পারলেই বাইরে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই জেলার একটা বিপ্লবী ইতিহাস রয়েছে। নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস মাটি কামড়ে থাকে। আমি এখানকার বিধায়ককে যেভাবে আক্রমণ করেছি গোটা বাংলায় এমনটা কেউ করেনি। কিন্তু, আক্ষেপ নিয়ে দলকে বলি, এই জেলায় লোকসভা নির্বাচনে ১৬টির মধ্যে ১৫টি বিধানসভায় আমরা হেরেছি। আমাদের নিজেদের ঘর সামলাতে হবে। দুর্বল এলাকায় সংগঠন সাজাতে হবে। প্রবীণ ও নবীন সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। গোটা তমলুক লোকসভার মধ্যে শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম-১ লিড দিতে পেরেছে। এই সাংগঠনিক স্পিরিট ধরে রাখতে হবে জেলার সর্বত্র।’



