Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসি তৎপরতাতে উদ্ধার হল দেড় ভরির সোনার হার, প্রচুর নগদ টাকা

পুলিসি তৎপরতাতে উদ্ধার হল দেড় ভরির সোনার হার, প্রচুর নগদ টাকা
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সহযাত্রীর ব্যাগের উপরই ব্যাগ রেখে দিয়েছিল ছোট্ট শিশুকন্যাকে নিয়ে বাসে ওঠা একটি পরিবার। শিশুর কথা ভেবেই কিছু বলেননি গৃহবধূ নীলিমা হালদার। হুঁশ ফিরল জামুড়িয়া থানার কুনুস্তোড়িয়া মোড়ে। তাঁর ব্যাগের চেন  খোলা। দেড় ভরি সোনার হার, সাত হাজার টাকা গায়েব। আগেই বাস থেকে নেমে পালিয়ে গিয়েছে শিশুকন্যার পরিবার। বাস থামিয়ে কুনুস্তোড়িয়া মোড়ে হুলস্থুল কাণ্ড বাধে। স্থানীয় ও পুলিসের তৎপরতায় শুরু হয় গায়েব হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের খোঁজ। পুলিসের নজরে আসে টোটোয় চেপে রানিগঞ্জের দিকে যাচ্ছে তারা। পুলিসি জেরায় স্বীকার করে চুরির ঘটনা। গ্রেপ্তার হয় মন্টু পাসি। 
Advertisement
চোরাই সামগ্রী লুকানোরও অভিনব পন্থা নিয়েছিল কেপমাররা। রাস্তার পাশে জঞ্জালে পড়ে থাকা বস্তায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল লক্ষাধিক টাকার সোনার চেন ও টাকা। সোনার চেনের বাক্স ও টাকার ব্যাগটি অন্যত্র ফেলে দিয়েছিল কেপমাররা। সম্ভবত, পুলিসের চোখে ধুলো দিতেই একাজ করেছিল তারা। চোর ‘চুরাশি’ বুদ্ধি ব্যবহার করলেও পুলিস ও সাধারণ মানুষের তৎপরতায় তাদের পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। চোরকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি খোয়া যাওয়া সোনার হার ও টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিস। জামুড়িয়া থানার ওসি সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, চুরির এক ঘণ্টার মধ্যে চোরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া সামগ্রী। রবিবার বাঁকুড়ার বিহারিনাথে বোনের বাড়ি থেকে স্বামীর সঙ্গে ফিরছিলেন নীলিমাদেবী। তাঁরা রানিগঞ্জ থেকে মিনি বাসে চেপে কেন্দ্রা অভিমুখে রওনা দেন। বাসে ভিড় ছিল। ওই বাসেই শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে বাসে উঠেছিল এক মহিলা। তার সঙ্গে এক যুবকও ছিল। ওই মহিলা হঠাৎ ঩নীলিমাদেবী ব্যাগের উপরেই তার ব্যাগ রেখে দেয়। তা দেখে নীলিমাদের প্রতিবাদ করলেও আর কথা বাড়াননি। পরে কুনুস্তোড়িয়া মোড়ের সামনে দেখেন ওই পরিবারটি নেই। তার ব্যাগের চেন খোলা। তিনি ব্যাগ হাঁতড়ে দেখেন তার মধ্যে থাকা মানিব্যাগ ও গয়নার বাক্স গায়েব। এরপরই চিৎকার শুরু করেন তিনি। কুনুস্তোড়িয়া মোড়ে ভিড় জমে যায়। পুলিস মহিলার স্বামী প্রেমনাথ হালদারকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিশুকন্যার পরিবারের খোঁজ শুরু করেন। স্থানীয় লোকজনও পুলিসের কাজে সহযোগিতা করেন। পুলিসের তল্লাশিতে দেখা যায় পরিবারটি একটি টোটো চেপে রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ের দিকে যাচ্ছে। পুলিস তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তখনই পরিবারের পুরুষ সদস্য মন্টু পাসি চুরির ঘটনা স্বীকার করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এরপরই অ঩ভিযুক্তকে নিয়ে চোরাই সামগ্রী উদ্ধারে নামে পুলিস। তখনই বস্তা থেকে দেড় ভরি সোনার চেন ও টাকা উদ্ধার হয়। মন্টুকে চাপ দিতেই গয়নার বাক্স ও মানিব্যাগ কোথায় ফেলেছে তা জানিয়ে দেয়। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ