সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: কোতুলপুরে পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর ও কর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় ধরপাকড়ের জেরে হন্নে গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ওই ঘটনায় রবিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপির দুই নেতা সহ সাতজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল। সোমবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের নাম সঞ্জয় দিগর ও প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। প্রথমজনের বাড়ি স্থানীয় মির্জাপুরে। দ্বিতীয়জনের বাড়ি ধরমপুর গ্রামে। এদিকে রবিবার খড়ের গাড়িতে আগুন ছড়ানোয় তা দেখতে এলাকার বহু মানুষ সেখানে হাজির হয়েছিলেন। তাই পুলিস কাকে ধরবে আর কাকে রাখবে সেই আশঙ্কায় হন্নে সহ ডেহুয়াবনী, ঝেরো প্রভৃতি গ্রামের অনেকেই বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। যদিও পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পুলিস কর্মীদের হেনস্তা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় সূত্র মারফত নির্দিষ্ট অভিযুক্তদেরই ধরা হয়েছে। তাছাড়া ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জেরা করে বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে সোমবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনও সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হয়নি।প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় কোতুলপুরের মদনমোহনপুর থেকে খড়বোঝাই করে একটি লরি বামুনাইরি মোড়ে রাজ্য সড়কের দিকে আসছিল। হন্নে গ্রামের কাছে আসতেই রাস্তার উপর হাইটেনশন তারের সংস্পর্শে আসায় খড়ে আগুন ধরে যায়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। চালক ও খালাসি কোনওরকমে লরি থেকে নেমে প্রাণে বাঁচেন। দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লরি জ্বলতে থাকে। ওই সময় হন্নে, ডেহুয়াবনী, ঝেরো প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা সেখানে ভিড় জমান। খবর পেয়ে পুলিস আসে। দমকলবাহিনীকে বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও দমকলবাহিনী না আসায় স্থানীয়দের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। লরির আগুন মাঠে থাকা ধানে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা পুলিসের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। পুলিস কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এরপরেই উত্তেজিত জনতা পুলিসের দু’টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে বিষ্ণুপুরের এসডিপিও বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে গিয়ে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।



