Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

পুলিস বা রেল সাহায্য করেনি, হাসপাতালে জুটেছিল থাপ্পড়, ক্ষোভ পরিজনদের

পুলিস বা রেল সাহায্য করেনি, হাসপাতালে জুটেছিল থাপ্পড়, ক্ষোভ পরিজনদের
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি: ‘ও ছিল খুবই ধর্মপ্রাণ। প্রতিদিন সকালে হনুমান চালিশা পাঠ করত। অথচ হনুমানজি ওর জীবন রক্ষা করলেন না’। বলতে গিয়ে গলা বুজে আসছিল মঞ্জু কুশওয়াহার। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর স্বামী মনোজের। দুই সন্তান প্রিন্স ও শচীনের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন, তা ভেবে কূল কিণারা পাচ্ছেন না মঞ্জু। দিল্লির নাংলোই এলাকার চঞ্চল পার্কের বাসিন্দা ৪৭ বছরের মনোজ ছিলেন পেশায় ঢালাইকর্মী। তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর প্রতিবেশী টুনটুন ভগতের স্ত্রীও সেদিনের দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।  সেই ভয়াবহ রাতে তাঁদের যে অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছিল, তা জানাতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন টুনটুন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিস বা রেল সহযোগিতা করেনি। হাসপাতালে জুটেছে থাপ্পড়। 
Advertisement
মনোজের স্ত্রী মঞ্জুর প্রশ্ন, ‘এই দিনটা দেখার জন্য কি মোদিজিকে ভোটটা দিয়েছিলাম?’ তাঁদের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। প্রতিবেশী টুনটুন জানালেন, ‘আমার স্ত্রী নীতুও গুরুতর আহত। দাঁড়াতে পারছেন না ঠিকভাবে। অথচ ওই চোট গুরুতর নয় বলে দাগিয়ে দিলেন রেলের আধিকারিকরা! ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এতে তো চিকিৎসাটুকুও ঠিকভাবে হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র দু’জন পুলিস অফিসার ভিড় সামলাচ্ছিলেন। একজন পুলিস আধিকারিক আমাদের ঠেলে দেন। মনোজ সামলাতে না পেরে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে পড়ে যায়। আমরাও ওর গায়ের উপর পড়ে গিয়েছিলাম। মনোজ চিৎকার করছিল, বাঁচব না। পুলিস বা রেলের কেউ সাহায্য করেনি।’ টুনটুন জানান, তারপর আর মনোজ সাড়া দিচ্ছিলেন না। ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে কয়েকজন পুলিসকে দেখতে পান তাঁরা। কিন্তু সাহায্যের আর্জি জানিয়ওে লাভ হয়নি। কোনওমতে মনোজকে নিয়ে স্টেশনের বাইরে আসেন টুনটুন। একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে তুলে পৌঁছন লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে। সেখানেই মনোজকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। টুনটুনের অভিযোগ, ‘হাসপাতালের কর্মীদের অনুরোধ করেছিলাম, মনোজের সঙ্গে আমরা থাকব। কিন্তু তাঁরা আমাকে পরপর থাপ্পড় মারে।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ