Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মঙ্গলকোটে সরকারি স্কুল সহ জমি প্লট করে বিক্রি, তদন্তের নির্দেশ

মঙ্গলকোটে সুকৌশলে সরকারি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র প্লট করে বিক্রি ও প্রচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন মহকুমা শাসক। তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলকোটে সরকারি স্কুল সহ জমি প্লট করে বিক্রি, তদন্তের নির্দেশ
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে সুকৌশলে সরকারি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র প্লট করে বিক্রি ও প্রচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন মহকুমা শাসক। তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। বুধবার মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কুড়ুম্বা গ্রামে স্কুলটি পরিদর্শনে যান বিডিও। তিনি জমিদাতাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এমনকী নথিপত্রও দেখতে চান। কাকে কীভাবে জমি বিক্রি করা হয়েছে খতিয়ে দেখেন বিডিও। উল্লেখ্য, ওই শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের জমি প্লট করে বিক্রির খবর বুধবারই ‘বর্তমান’ এ প্রকাশিত হয়। তারপরই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, আমি বিডিওকে তদন্ত করে রিপোর্ট চেয়েছি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, মঙ্গলকোটের কুড়ুম্বা গ্রামে বাবুরপুকুর পাড় এলাকায় পূর্ব গোপালপুর শিশুশিক্ষা কেন্দ্রটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০৫সালে স্থানীয় বাসিন্দা গোপেশ্বর গড়াই ওই স্কুলকে ২০ শতক জায়গা দান করেন। তারমধ্যে মাত্র পাঁচ শতক জমিতে তিনটি আলাদা ভবন তৈরি করা হয়েছিল। শ্রেণিকক্ষ থেকে অফিসঘর সবই ছিল। স্কুলে শৌচালয়ও ছিল। ২০২১ সালের মার্চ মাসে পড়ুয়ার অভাবে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপরই জমি প্লট করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, সরকারি টাকায় তৈরি হওয়া স্কুল ভবনগুলিও কয়েক লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন খোদ জমিদাতা গোপেশ্বরবাবু। মঙ্গলকোটের বিডিও অনামিত্র সোম বলেন, আমি স্কুল ভবনে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। 
প্রশাসনের ভুলেই এই কাণ্ড ঘটেছে বলে অনেকের দাবি। ২০০৫সালে গোপেশ্বরবাবু শর্তসাপেক্ষে ২০শতক জমি স্কুলের জন্য দান করেন। কিন্তু ভূমি সংস্কার দপ্তরের দাবি, শর্তসাপেক্ষে সরকারকে দান করা যায় না। সরকারকে নিঃশর্তভাবেই দান করা হয়। কুড়ুম্বা গ্রামে যে জায়গার উপর সরকারি স্কুল গড়ে উঠেছে ওই জায়গা নাকি কোনওদিনই স্কুলের নামে রেকর্ড করা ছিল না। এই সুযোগই নিয়েছেন জমিদাতা। সরকার নিজের নামে জায়গাটি রেজিস্ট্রি না করা সত্ত্বেও কীভাবে স্কুল গড়ে তুলল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কার গাফিলতিতে এই ঘটেছে তাও তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে। গোপেশ্বরবাবু স্কুলের‌ই পরিচালন কমিটির সভাপতিকে জমি দান করেছেন। ওই সভাপতি আবার সেই জায়গা সরকারি ভবনের একাংশ সহ খোদ জমিদাতাকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। যারফলে তা প্লট করে বিক্রি করতে সুবিধা হয়েছে জমিদাতার। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। গোপেশ্বরবাবু বলেন, সরকারি অফিসারদের নথিপত্র দিয়েছি। তদন্তে সহযোগিতা করব। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ