Bartaman Logo
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলায় নাম বাতিলের আরজি, নীরব কমিশন

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য। বুধবার একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের এই রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় হয় গোটা দেশ।

বাংলায় নাম বাতিলের আরজি, নীরব কমিশন
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য। বুধবার একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের এই রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় হয় গোটা দেশ। সেই তালিকায় থাকা একাধিক অভিযোগের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও উল্লেখ ছিল। শনিবার দুই  কমিশনারের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে ‘ঐক্য’র বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কমিশন। দুই কমিশনারের তোলা অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় এসআইআর নিয়ে যে মূল অভিযোগ উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

বাংলার নির্বাচনের আগে এসআইআর নিয়ে জোরদার বিতর্ক হয়েছিল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে তা থেকে নাম বাদ যায় প্রায় ২৭.১৬ লক্ষ ভোটারের। এর বিরুদ্ধে বাদ পড়া ভোটারদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, বাদ পড়া ২২ লক্ষ ২১ হাজার ভোটার আবেদন করেছেন নাম পুনর্বহালের জন্য। অন্যদিকে, নোটিস পাওয়ার পরও তালিকায় নাম উঠেছে এরকম ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ভোটারের নাম বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।
এই আবহে বিষয়টি নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে ওই দৈনিকের রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১৬.১০ লক্ষ আবেদন কারা করেছিলেন এবং কার অনুমোদনে দায়ের করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু। তিনি আধিকারিকদের কাছে জানতে চান, ইসিআইয়ের পক্ষ থেকে ওই আপিলগুলি দায়ের করার অনুমতি কে দিয়েছিলেন? এবং বাস্তবে কে সেই আবেদন করেছিলেন? কারণ, তিনি নিজে, অপর নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি বা পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক—কেউই ওই আবেদনের ভিত্তি বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। শনিবার এই প্রসঙ্গটিই এড়িয়ে গিয়েছে কমিশন। অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও সেই ভোটারদের
নাম বাতিল করার জন্য কেন আবেদন করা হল, তা নিয়ে মুখে কুলুপ কমিশনের।
পাশাপাশি, সংস্কারের স্বার্থে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ফর্ম-৬ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের সময়সীমার বাইরে অফলাইনে নির্ধারিত ফর্ম-৬ ব্যবহার করা হবে। কিন্তু আপত্তির মূল বিষয় ছিল অনলাইন ফর্ম-৬। সেখানে আবেদনকারীর বাবা-মা সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। ওই প্রশ্নের উত্তর না দিলে আবেদন এগোনোর সুযোগ ছিল না। নতুন নোটে অনলাইন ফর্মে ওই প্রশ্ন বা সেটি সরানো হয়েছে কি না—কিছুই উল্লেখ করা হয়নি নির্বাচন কমিশনের তরফে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ