সংবাদদাতা, কান্দি: ঝোলাঝুলি করে খেলা করার সময় নির্মীয়মাণ বাংলার বাড়ির লিনটেলের স্লাব মাথায় ভেঙে পড়ে দুই বালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ভরতপুর থানার জজান গ্রামের দিঘিরপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতরা হল সঞ্জু মাঝি(১০)। তার বাড়ি জজান গ্রামে। অপর বালকের নাম আদিত্য বাগদি(৭)। তার বাড়ি কান্দি থানার যশোহরি গ্রামে। দুর্ঘটনার পর পুলিস দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত আদিত্যর মামার বাড়ি জজানগ্রামে। সে মামার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করত। সেখানে প্রতিবেশী বালক সঞ্জুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়েছিল। দু’জনে একসঙ্গে খেলাধুলা ও পড়াশোনা করত। এদিন দুপুরে দু’জনে আদিত্যর দাদু সুনীল মাঝির নির্মিয়মাণ বাংলার বাড়িতে খেলা করছিল। লিনটেলের ঢালাই থেকে বের হয়ে থাকা লোহার রড ধরে ঝোলাঝুলি করছিল। তখনই দু’জনের মাথায় গোটা লিনটেল ভেঙে পড়ে। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই বালকের। এই ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে সেখানে পৌঁছয় ভরতপুর থানার পুলিস। পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মৃত আদিত্যর বাবা লালবাবু বাগদি বলেন, লেখাপড়ার জন্য ছেলেকে মামার বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু এই দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিল। মৃত সঞ্জুর পিসি চিন্তা মাঝি বলেন, এদিন দুপুরে সবাই যখন রান্নায় ব্যস্ত ছিলাম। সেইসময় ওরা নির্মিয়মাণ বাড়িতে খেলা করছিল। সেখানে হঠাৎ করে বিকট শব্দ পেয়ে আমরা ছুটে যাই। দেখি, দু’জনে লিনটেলের স্লাবের নীচে চাপা পড়ে রয়েছে। রক্তে ভেসে গিয়েছে গোটা এলাকা।
মৃতদের আত্মীয় মাধব মাঝি বলেন, যে বাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি বাংলার বাড়ি প্রকল্পের। তবে প্রায় দেড়মাস ধরে বাড়ির কাজ বন্ধ ছিল। খালি লিনটেলের উপর ইট গাঁথা থাকলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটত না। ভরতপুর-১ এর বিডিও দাওয়া শেরপা বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা খতিয়ে দেখছি। কান্দির এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। জজান পঞ্চায়েতের প্রধান রিনা বেগম বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যরা ওই বাড়িতে গিয়েছিল। আমরা ওই পরিবারের পাশে আছি। তাঁরা যাতে সরকারি সাহায্য পান, তাও দেখা হচ্ছে।