নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘হাই প্রোফাইল’ নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা নিয়ে সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধুমাত্র জেনারেল ক্লাসের অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি নয়, ঘটনার দিন নিউদিল্লি স্টেশনে ১১ হাজারেরও বেশি প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি করেছে নর্দার্ন রেল। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রির এই হার দৈনিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। বুধবার সংসদে এমনই তথ্য জানাল রেলমন্ত্রক। যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের মতে, এই তথ্যে আবারও প্রতিষ্ঠিত হল যে, ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ভিড়ের কারণেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। আর সেই ভিড়ের ‘সুযোগ’ করে দিয়েছে রেলমন্ত্রকই। অর্থাৎ, রেলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ফের স্পষ্ট। যদিও কোনওরকম অভিযোগ মানতেই নারাজ রেল বোর্ড। বুধবারও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিউদিল্লি স্টেশনের যা পরিকাঠামো, তাতে এই ভিড় সামলানো কোনও সমস্যাই নয়।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিউদিল্লি স্টেশনে কত প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে এদিন লিখিত প্রশ্ন করেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ওইদিন নিউদিল্লি স্টেশনে ১১ হাজার ৯৯টি প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউদিল্লি স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রির দৈনিক গড় ৯ হাজার ৯৫৮। এই দৈনিক গড়ের থেকেই প্রায় ১১ শতাংশ বেশি প্ল্যাটফর্ম টিকিট বিক্রি হয়েছিল সেদিন।
প্রসঙ্গত, এর আগে লোকসভার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিউদিল্লি স্টেশনে ৪৯ হাজার জেনারেল ক্লাসের টিকিট বিক্রি হয়েছে। তা বিগত ছ’মাসে নিউদিল্লি স্টেশনে জেনারেল টিকিট বিক্রির দৈনিক গড়ের তুলনায় ১৩ হাজার বেশি। জেনারেল ক্লাস এবং প্ল্যাটফর্ম টিকিট দু’টোই অনেক বেশি সংখ্যায় বিক্রির অর্থ একটিই। তা হল, নির্ধারিত সীমার থেকেও বেশি সংখ্যায় সাধারণ রেল যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছিল রেলই। অন্যদিকে, বুধবার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়, দীপক অধিকারী (দেব) এবং কংগ্রেস এমপি উজ্জ্বল রমন সিংয়ের অন্য এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে লোকসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে বিনা টিকিটের প্রায় ২ কোটি ১৬ লক্ষ যাত্রীকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে জরিমানা বাবদ প্রায় ৫৬২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে।