নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাগজ নয়। প্লাস্টিকের নোট আগামী দিনে চালু হবে ভারতে। পাইলট প্রজেক্ট শুরু হতে পারে যে কোনো সময়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দু’দফায় সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে। পলিমার নোট (প্লাস্টিকের) ব্যবহার করা যায় কি না, খতিয়ে দেখতে নমুনা নোট রেখে এটিএমেও পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সেই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলেই দাবি। কেন এই উদ্যোগ? মোদি সরকার যতই ডিজিটাল লেনদেনের সাফল্য দাবি করুক, দেশজুড়ে বস্তুত টাকার লেনদেন কমছে না। বরং নোটের চাহিদা ও লেনদেন বেড়েছে। যে সময় নোটবাতিল করা হয়েছিল সেই ২০১৬ সালে বাজারে নোট চালু ছিল ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মে মাসে বাজারে বৈধ নোটের অঙ্ক ৪২ লক্ষ কোটি টাকা। রিজার্ভ ব্যাংক তাদের রিপোর্টে জানাচ্ছে ১০ এবং ২০ টাকার নোটের চাহিদা ঊর্ধ্বগামী। এই টাকা কোনো মেশিনে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের কাজে লাগছে। এই দুই অঙ্কের ধাতব মুদ্রা চালু করা হলেও সেটি সফলতা পায়নি। কয়েনের ব্যবহার নিরাপদ। ছেঁড়ার সম্ভাবনা নেই। অথচ কয়েনের ব্যবহারের তুলনায় আমজনতা ১০ ও ২০ টাকার নোট বেশি ব্যবহার করতে চাইছে। একান্তই না পেলে কয়েন দেওয়া নেওয়া চলছে। আর এই চাহিদার কারণে সব ধরনের নোটই আবার বেশি করে বাজারে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে কাগজের পরিবর্তে পলিমার নোট ব্যবহার করা যায় কি না, আপাতত সেই পরীক্ষা চলছে। পলিমার নোট কি ভাঁজ করা যাবে? এই প্রশ্নও উঠছে। বস্তুত নোট ছাপার খরচ বেড়ে চলেছে উত্তরোত্তর। বিগত আর্থিক বছরে নোট ছাপতেই রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। তার পূর্ববর্তী বছরে এই ব্যয় ছিল ৫ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কাগজের নোট ছাপতে। সেই তুলনায় পলিমার নোট ছাপতে কম খরচ। আর ছেঁড়া অথবা অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।



