Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় নিকাশি নালা সাফাইয়ে মিলল প্লাস্টিকের বোতল, খাটের ভাঙা পায়াও

এমনকী, মিলেছে খাটের ভাঙা পায়া, হেলমেট থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী। টানা বর্ষণে জলমগ্ন শহরের একাধিক ওয়ার্ড

হাওড়ায় নিকাশি নালা সাফাইয়ে মিলল  প্লাস্টিকের বোতল, খাটের ভাঙা পায়াও
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত বছর ডাবল ব্যারেল চ্যানেল পরিষ্কার করতে গিয়ে নালার ভিতর থেকে বালিশ, বিছানার তোষক খুঁজে পেয়েছিলেন পুরসভার সাফাইকর্মীরা। এবছর উত্তর থেকে দক্ষিণ— হাওড়া শহরের প্রায় সর্বত্রই স্যুয়ারেজের ভিতর থেকে মিলছে কেজি কেজি প্লাস্টিকের বোতল। এমনকী, মিলেছে খাটের ভাঙা পায়া, হেলমেট থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী। টানা বর্ষণে জলমগ্ন শহরের একাধিক ওয়ার্ড। মানুষের একাংশের অসচেতনতার কারণে জল যন্ত্রণায় ভুগতে হচ্ছে প্রত্যেককে, স্যুয়ারেজ থেকে উদ্ধার হওয়া প্লাস্টিকের স্তূপ দেখে একাংশের অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন খোদ নাগরিকরা।

Advertisement

চলতি বছরে ডাবল ব্যারেল চ্যানেল আগেভাগেই পরিষ্কার করার কারণে জমা জল দ্রুত বেরিয়ে যাচ্ছে এখান দিয়ে। অথচ শহরের ভিতরে থাকা ছোট, মাঝারি নিকাশি নালাগুলি বৃষ্টির জমা জলে সম্পূর্ণ রুদ্ধ। নর্দমা উপচে গৃহস্থের ঘরের ভিতর দিয়েই বইছে জলের স্রোত। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর সমান জলে বিপর্যস্ত জনজীবন। একটানা পাম্প চালিয়েও জল নামাতে পারছে না পুরসভা। জমা জল সরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন পরিষ্কার করতে নামানো হয়েছে সাফাই কর্মীদের। তাতে রীতিমতো মাথায় হাত পড়েছে পুরসভার। স্যুয়ারেজের ভিতর থেকে মিলছে তোষক, বালিশ, খাটের ভাঙা অংশ, হেলমেট। এমনকী, হাজার হাজার মদের বোতল আটকে রয়েছে নিকাশির ভিতরে। সেগুলি বের করে রাস্তার পাশে রাখতেই রীতিমতো স্তূপে পরিণত হয়েছে। নতুন রাস্তার মোড়, বেলেপোল, টিকিয়াপাড়া, বি গার্ডেন লেন, কোলে মার্কেট সহ বিভিন্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন সাফ করার সময় নাগরিকদের অসচেতনতার ছবিই ধরা পড়েছে। 
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে শহরে জল জমলেও বহু এলাকা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জল নেমে গিয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গায় পাম্প চালিয়েও জল নামানো যাচ্ছে না। স্যুয়ারেজের ভিতর থেকে যেভাবে কেজি কেজি প্লাস্টিকের বোতল মিলছে, তা অবাক করার মতো।’ প্লাস্টিকের বোতলের স্তূপ দেখে নাগরিকদের অনেকেই বলছেন, ‘নিকাশি নালা পরিষ্কার করতে পুরসভার তরফে অনেক সময় ঢিলেমি দেখা যায়। কিন্তু জমা জলের জন্য সবক্ষেত্রে পুরসভাকে দায়ী করা উচিত নয়। কিছু অসচেতন মানুষের জন্য প্রত্যেককে ভুগতে হচ্ছে।’ গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইকোপার্কের কাছে ডাবল ব্যারেল চ্যানেল থেকে উদ্ধার হয়েছিল প্রচুর পরিমাণে বালিশ ও কম্বল। সে কারণে জমা জলের সমস্যায় ভুগতে হয়েছিল শৈলেন মান্না সরণি, ইছাপুর, রামরাজাতলা সহ একাধিক ওয়ার্ডের মানুষকে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ