Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মদ, গাঁজা, হেরোইনে ভরেছে পলাশীর ঐতিহাসিক প্রান্তর

মদ, গাঁজা, হেরোইনে ভরেছে পলাশীর ঐতিহাসিক প্রান্তর
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (পলাশী): নদীয়া জেলার অন্যতম ঐতিহ্যশালী স্থান পলাশী। পর্যটকরা আসেন সেই ঐতিহাসিক স্থান দেখতে। ইতিহাস সমৃদ্ধ সেই এলাকাই চলে গিয়েছে মাদকাসক্তদের দখলে। সেখানে বিভিন্ন জায়গায়  নেশার আসর বসে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। যা নিয়ে অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন। মদ, গাঁজা, হেরোইন কিছুই বাদ পড়ে না। হেরোইনের চাহিদা পূরণ হয় পার্শ্ববর্তী মাদকের গোডাউন নলদহ থেকে। এলাকায় পুলিসি সক্রিয়তা বাড়ানোর দাবি তুলছেন পলাশীবাসীরা। এলাকাবাসীদের কথায়, হাজরাপোতা, পলাশী রেলগেট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা, মীরা গার্লস হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় দিনে দুপুরে নেশার ঠেক বসে। সম্প্রতি পলাশীর মীরা-১ পঞ্চায়েতে সিপিএমের তরফ থেকে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সেখানেই এই মাদকাসক্তির প্রসঙ্গটি তুলে ধরা হয় হয়। 

Advertisement

কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ‘মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পলাশী ও তার আশেপাশের এলাকায় টহলদারি বাড়াচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে পলাশীর নাম। ইংরেজ শাসনের শুরু পলাশীর প্রান্তর থেকেই। সেই ইতিহাসের চিহ্ন পলাশী মনুমেন্ট। এবার সেখানেই থাবা বসিয়েছে নেশাখোররা। যা ঐতিহাসিক জায়গার পরিবেশকে কলুষিত করছে বলেই মনে করছেন গুণিজনেরা। এলাকাবাসীদের দাবি, বাইরে থেকে অনেক পর্যটক এখানে আসেন। তাঁরা ঐতিহ্যশালী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের আসর দেখতে পান। যাকে ‘দৃশ্য দূষণ’ বলেই‌ দাবি করছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, এলাকার বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় এই ঠেক দেখা যায়। 
সাধারণ দিনে পলাশী মনুমেন্ট সংলগ্ন এলাকাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মদের বোতল পড়ে থাকতে যায়। সম্প্রতি কালীগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণের একটি ঘটনা ঘটে। গ্রামের মানুষজন পুলিসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, সেখানেও একটি মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে গ্রামবাসীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, নতুন প্রজন্ম এই নেশার ঠেকে ভিড়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের দিন কাটছে নেশার আসরেই। যার প্রভাব পড়ছে সংসারেও। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে পারিবারিক কলহও বাড়ছে। 
উল্লেখ্য, পলাশীর পাশেই ‘মাদক গ্রাম’ নলদহ।‌ যাকে হেরোইন আঁতুড়ঘর বলা হয়। পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত এই এলাকায় হেরোইন বানানো হয়। তাই এই কালীগঞ্জের পলাশীতেও হেরোইন সহজলভ্য। হাট গোবিন্দপুরের এলাকা হেরোইন নেশায় সবচেয়ে প্রভাবিত বলেই দাবি পলাশীবাসীদের। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পলাশীর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও ধাবাতে মধুচক্রও চলে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। 
পলাশীর বাসিন্দা শুভঙ্কর দাস বলেন, আমাদের এই জায়গা ঐতিহ্যশালী। কিন্তু মাদকাসক্তদের প্রভাব বাড়ছে এলাকায়। বিষয়টা প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। পলাশীর বাসিন্দা তথা সিপিএমের নদীয়া জেলার সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, এলাকার পুলিসি টহলদারি বাড়াতে হবে। 
যেসমস্ত ঠেকগুলো দিনদুপুরে চলছে পলাশীর বিভিন্ন এলাকায়, তা বন্ধ করতে হবে। এলাকার বহু মানুষ মদ, গাঁজা, হেরোইনের নেশায় ডুবে থাকছে।‌ এর ফলে ঐতিহ্যশালী এই এলাকার পরিবেশ খারাপ হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ