সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: গত পাঁচ-ছয় সপ্তাহে নিলামের দামে ধস নামায় অসম ও পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্পে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই শিল্পের স্থায়িত্ব যেন গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উত্তর ভারতে চা নিলামে যে মূল্য পাওয়া যাচ্ছে তার পরিসংখ্যান অত্যন্ত সংকটজনক চিত্র তুলে ধরছে। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি, অত্যধিক গরম, পোকামাকড় ও রোগপোকার প্রকোপ চায়ের উৎপাদন ব্যাহত করছে। উত্তরবঙ্গের ২৩০ সহ অসম মিলিয়ে ৩০০’র বেশি চা বাগান রয়েছে। এর উপর এক কোটি মানুষের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। এই পরিস্থিতিতে সকলেই কম বেশি উদ্বিগ্ন।
ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের এক বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের তুলনায় সম্প্রতি চায়ের নিলাম মূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। উত্তর ভারতের তিনটি প্রধান নিলাম কেন্দ্র কলকাতা, গুয়াহাটি ও শিলিগুড়িতে জুলাই এবং আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিষয়টি লক্ষ্য করা গিয়েছে। কেজি প্রতি চা নিলামের গড় দাম ১৯-৫৩ টাকা পর্যন্ত পতন হয়েছে। দেখা গিয়েছে কলকাতায় গড় বিক্রয় মূল্য ২৯১.২৭ টাকা থেকে কমে ২৩৮.৭৭ টাকা হয়েছে যা প্রায় ১৭% পতন। দু’মাসেরও কম সময়ে এটি হয়েছে। একইভাবে গুয়াহাটিতে ২৬৪.৮৯ টাকা থেকে কমে ২২১.৫৭ টাকা হয়েছে। যা ১৫% পতন। শিলিগুড়িতেও ২০১.৮০ টাকা থেকে কমে ১৮২.৩০ টাকা হয়েছে। যা ৮% পতন।
টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি চাষের মরশুমে জুন পর্যন্ত উত্তর ভারতে গত বছরের তুলনায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ কেজি বা ৫% ফসল বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ে ফসলের পরিমাণ ৮% কমেছে। চলতি মাসে একই রকম পতন দেখা যাচ্ছে। ফলে আগস্ট শেষে গত বছরের তুলনায় উত্তর ভারতে সামগ্রিকভাবে ৮০ লক্ষ কেজি উৎপাদন কম হবে বলে অনুমান। আগামী মাসগুলিতে অসমেও উৎপাদন কমে যাবে। কারণ সাম্প্রতিক বন্যায় ডুবে যাওয়া চা গাছগুলি সেরে উঠতে সময় লাগবে।
এবছর রপ্তানির ক্ষেত্রেও চা শিল্পের পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৮ কোটি ৫৫ লক্ষ কেজি চা রপ্তানি হয়েছিল। সেখানে টি বোর্ডের প্রকাশিত জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী চা শিল্প গত বছরের তুলনায় ২ কোটি ৩ লক্ষ কেজি বা ১৮% পিছিয়ে রয়েছে। অসম ও পশ্চিমবঙ্গ উভয় স্থানে চা শিল্প আগামী দিনে এক কঠিন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে দলে প্রেস বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছেন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (টাই) সভাপতি হশলজা মেহতা।
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভাইজার অমিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, আইটিপিএ-র অ্যাডভাইজার হিসাবে বলব তারা অত্যন্ত বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ সহমত প্রকাশ করছি। ৩০ শতাংশ উৎপাদন কমে গিয়েছে। নিলামে দাম কমেছে। পোকার আক্রমণ রয়েছে। সামনে বোনাসের বিষয়ে রয়েছে। তাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা জোগাড় করা দুঃসাধ্য হবে।