Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ঋণ শুধছে মধ্যবিত্ত, গায়ে হাওয়া ধনীদের

তেলা মাথায় তেল! একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ পুনরুদ্ধারের হিসাবেও ধনী-গরিব বৈষম্যের চিত্র ফের সামনে এল।

ঋণ শুধছে মধ্যবিত্ত, গায়ে হাওয়া ধনীদের
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: তেলা মাথায় তেল! একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ পুনরুদ্ধারের হিসাবেও ধনী-গরিব বৈষম্যের চিত্র ফের সামনে এল। তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনে প্রদত্ত জবাবে দেখা যাচ্ছে, অপেক্ষাকৃত স্বল্প অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের থেকে ৭৪ শতাংশ অর্থ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু অনাদায়ী বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে টাকা আদায়ের হার ১৫ শতাংশেরও কম। হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়া সত্ত্বেও যেসব বৃহৎ ঋণগ্রহীতা অর্থ ফেরত দেননি, তাঁদের নাম পর্যন্ত প্রকাশ করতে চায়নি এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। কিন্তু ‘মকুবে’র অঙ্কটা স্পষ্ট। এবং সমীকরণটাও—মধ্যবিত্ত ঋণ মেটাচ্ছে। আর গায়ে হাওয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে ধনীরা।

Advertisement

ব্যাংকটির কাছে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ঋণ পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিলেন পুনের আরটিআই কর্মী বিবেক ভালেঙ্কর। জবাবে জানানো হয়েছে, ১০০ কোটির বেশি লোন নেওয়া বড়ো ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে মোট ২৬ হাজার ৭০১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা রাইট অফ বা হিসাবের খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। ব্যাংক আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৩ হাজার ৮৭৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ রাইট অফের নিরিখে ঋণ পুনরুদ্ধারের পরিমাণ মাত্র ১৪.৫ শতাংশ। ৮৫ শতাংশেরও বেশি লোনের টাকা ফেরত আসেনি। গত ১০ বছরে বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের সবচেয়ে বেশি রাইট অফ হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে, মোট ৭ হাজার ২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। অথচ ১ কোটি টাকার কম লোন নেওয়া ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে চিত্রটা উলটো। এক্ষেত্রে ব্যাংকটিকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। এই দশ বছরে স্বল্প ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ৬ হাজার ৭৭৪ কোটির ঋণ হিসাবের খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। পুনরুদ্ধার হয়েছে ৫ হাজার ৪ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা, প্রায় ৭৪ শতাংশ।
এ তো শুধু একটি ব্যাংকের হিসাব। কয়েকদিন আগে আরটিআইয়ের জবাবে অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের হিসাব মুছে ফেলার তথ্য সামনে এসেছিল। তারাও জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে ১০০ কোটি বা তার বেশি অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের মোট ৩৫ হাজার কোটিরও বেশি বকেয়া ‘টেকনিক্যালি’ মুছে ফেলা হয়েছে ব্যাংকের হিসাবের খাতা থেকে। এক্ষেত্রেও কারা ঋণ পরিশোধ করেনি, তাদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এক শিল্পপতির ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ মাত্র সাড়ে ৬ কোটিতে মাফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইবুনাল। অথচ সাধারণ মানুষ এমন ছাড় পাওয়ার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ