নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারি ব্যাংকের জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। অর্থাৎ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলেও টাকা নেই। ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ন্যূনতম ব্যালান্স হিসাবে রাখতেই হবে— এই নিয়ম যতদিন চালু ছিল, সেই সময় পর্যন্ত দেখা যেত জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কম। কারণ একটাই। ওই ন্যূনতম ব্যালান্স না থাকলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের উপর চাপানো হত জরিমানা। এই জরিমানা দেওয়ার ভয়েই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর গ্রাহকদের বিপুল অংশ বাধ্য হয়ে ২-৩ হাজার টাকার ন্যূনতম ব্যালান্স ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রাখতে বাধ্য হত। কিন্তু বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাংক ২০২৫ সালেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই ন্যূনতম ব্যালান্স রাখার কড়াকড়ি বন্ধ করা হবে। অর্থাৎ জরিমানা আর দিতে হবে না। অন্যতম কারণ হল, বহু গ্রাহক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছিল। ২০২৫ সালে স্টেট ব্যাংক, কানাড়া ব্যাংক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ইন্ডিয়ান ব্যাংকের মতো বৃহৎ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় ন্যূনতম ব্যালান্স না রাখলে আর জরিমানা আদায় করা হবে না। এরপরই ২০২৫-২৬ আর্থিক বছর সমাপ্তির পর গত এপ্রিল মাসের হিসাবেই দেখা যায় যে, জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। অর্থাৎ যেহেতু আর জরিমানার ভয় নেই, তাই সাধারণ গ্রাহকদের একাংশ একদিকে যেমন জমা টাকার সবটাই তুলে নিয়েছে আবার অন্যদিকে ন্যূনতম ব্যালান্সহীন অ্যাকাউন্ট আর বন্ধ করা হচ্ছে না। তাই বৃদ্ধি পেয়েছে জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্ট। ২০২৫ সালে জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্ট ছিল সাড়ে ১১ কোটি। আর ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত সংখ্যাটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি ব্যাংকের এরকম জিরো ব্যালান্স অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান কেন? মনে করা হচ্ছেল বেসরকারি ব্যাংকে খুব বেশি আমজনতা, গরিব, শ্রমিক, অসংগঠিত কর্মীর অ্যাকাউন্ট থাকে না। সরকারি ব্যাংকেই থাকে তাদের অ্যাকাউন্ট। পাশাপাশি ডাইরেক্ট বেনেফিট ট্র্যান্সফারের টাকা নিয়ম করে প্রবেশ করে সরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আর সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে গরিব মানুষ তুলে নেয়। সঞ্চয় করে রাখার মতো বিলাসিতা তাঁদের নেই। আবার অতিরিক্ত অর্থ জমা করারও প্রবণতা অনেক কমে গিয়েছে। তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। সঞ্চয় শূন্য। তারই পরিভাষায় নাম জিরো ব্যালান্স!



