Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুঁচুড়ায় পাঁচটি ‘পার্কিং এরিয়া’ তৈরির পরিকল্পনা, ইতিমধ্যেই চালু বাসস্ট্যান্ডে

একদিকে পুরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে শহরকে যানজট মুক্ত করা

চুঁচুড়ায় পাঁচটি ‘পার্কিং এরিয়া’ তৈরির পরিকল্পনা, ইতিমধ্যেই চালু বাসস্ট্যান্ডে
  • ৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: একদিকে পুরসভার নিজস্ব আয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে শহরকে যানজট মুক্ত করা। এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চুঁচুড়া শহরজুড়ে একগুচ্ছ বৈধ ‘পার্কিং এরিয়া’ তৈরি করছে চুঁচুড়া পুরসভা। পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলার্সে ইতিমধ্যেই শহরে পাঁচটি ‘পার্কিং এরিয়া’ তৈরির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। আরও একাধিক পার্কিং এরিয়া’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চর্চা চলছে। সম্প্রতি চুঁচুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি পার্কিং চালুও করে দিয়েছে পুরসভা। সবমিলিয়ে পুরসভার যত্রতত্র পার্কিং করার স্বাভাবিক নাগরিক অভ্যাসে এবার রাশ টানতে চাইছে পুরসভা।

Advertisement

পুরকর্তাদের দাবি, চুঁচুড়া অনেক পুরনো শহর। তাতে ঘনবসতির পাশাপাশি দোকান, বাজারের সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে শহর যেমন আয়তনে ছোট হয়েছে, তেমনই যানবাহন বেড়ে যাওয়ার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। আবার, শহরে পর্যটকদের আনাগোনা থাকার কারণে বহিরাগত যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে শহর রীতিমতো ঘিঞ্জি হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা বহাল রাখার জন্য ‘পার্কিং এরিয়া’ নির্দিষ্ট করাই একমাত্র বিকল্প। নইলে শহর স্তব্ধ হয়ে যাবে। পুরকর্তাদের দাবি, ওই পরিকল্পনা তৈরির জন্য শহরের ট্রাফিক পুলিসের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, বহুদিন ধরেই পার্কিং এরিয়া নির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল। সেই নিরিখে কিছু কাজ এগিয়েছে। আমরা একটি ‘পার্কিং এরিয়া’ চালু করতে পেরেছি। আরও একাধিক পার্কিং এরিয়া দ্রুত চালু করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ওই পদ্ধতিতে পুরসভার নিজস্ব আয়ও কিছুটা বাড়বে। উন্নত সমস্ত শহরেই পার্কিং ও নো পার্কিং জোন থাকে। সেই ব্যবস্থাকেই আমরা প্রাচীন শহর চুঁচুড়ায় চালু করেছি। 
পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য (পূর্ত) সৌমিত্র ঘোষ বলেন, যে পাঁচটি ‘পার্কিং এরিয়া’ চিহ্নিত করা হয়েছে, তা থেকে পুরসভার বার্ষিক ৩ লক্ষ পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই পাঁচটি এলাকার কোনওটি শহরে ঢোকার মূল প্রবেশপথ, কোনওটি গুরুত্বপূর্ণ স্কুল বা ধর্মস্থানে হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যায় গাড়ি, বাইক, টোটো আসা যাওয়া করে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে গাড়ি রাখার কারণে নিয়মিত যানজট হয়। সেই কারণেই প্রথম পর্বে ওই স্থানগুলিতেই ‘পার্কিং এরিয়া’ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কিছু এলাকাতে পার্কিং এরিয়া করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরকে আয়তনে বাড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। সেইসঙ্গে নাগরিকদের নিজস্ব যানবাহনের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ব্যান্ডেল চার্চ, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ স্কুল, খাদ্য সরবরাহ দপ্তর ও চুঁচুড়া কমিশনারেট অফিসের মাঝের গলি এবং ময়দান, ওই এলাকাগুলি দিনেরাতে যানজটের কবলে পড়ছিল। তাই ওই এলাকাগুলিকেই প্রথম দফায় পার্কিংয়ের বিধিনিষেধের আওতায় আনা হচ্ছে।            

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ