নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও কলকাতা: টাকার অঙ্ক ৩২ কোটি! এত টাকা সন্দেশখালির হোটেলে কেন ছিল? পুলিস সূত্রে খবর, হোটেল থেকে ধৃত দু’জনকে জেরা করে জানা গিয়েছে, অস্ত্র কেনার জন্যই গচ্ছিত রাখা হয়েছিল এই বিপুল পরিমাণ টাকা। তদন্তকারীদের ধারণা, দুই ধৃত আদতে ‘চুনোপুঁটি’। বেআইনি অস্ত্র কারবারের একটি শক্তিশালী চক্র এবং কয়েকজন ‘রাঘববোয়াল’ আছে এর পিছনে। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশের ইঙ্গিত পাচ্ছে পুলিস। চক্রের মাথাদের ধরতে বসিরহাট পুলিস জেলার একাধিক টিম ভিন রাজ্যে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় বেশ কয়েকজনকেও জেরা করেছেন সন্দেশখালি থানা ও সিআইডির অফিসাররা।
শনিবার সকালে সন্দেশখালি ধামাখালির হোটেলে অভিযান চালিয়ে আসল ও নকল মিলিয়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করে পুলিস। উদ্ধার হওয়া টাকার বেশিরভাগটাই ছিল ৫০০ টাকার নোটে। পুলিস সূত্রের দাবি, ধৃত সিরাজউদ্দিন মোল্লা জেরায় জানিয়েছে, অস্ত্র কেনার জন্যই রাখা হয়েছিল ওই টাকা। পুরোটাই হাওলার টাকা। সন্দেশখালির এক সময়ের ‘ত্রাস’, বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের ‘কোর টিম’-এর সদস্য হিসেবে সে মূলত গোরু পাচার, কাপড় পাচার ও মাছের কারবারের টাকা সংগ্রহ করত। অস্ত্র কেনার জন্য এই টাকা গচ্ছিত রাখার নির্দেশ পেয়েছিল সে। কেন অস্ত্রের প্রয়োজন হল? সূত্রের খবর, শাহজাহান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিভিন্ন ডেরা থেকে অনেক অস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বেহাতও হয়ে গিয়েছে অনেক অস্ত্র। তাই অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় শক্তিশালী করার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। ধৃতরা কয়েকদিন আগে ধামাখালির ওই হোটেল সহ এলাকা রেইকি করে গিয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিস। শুক্রবার রাতে টাকা গোছানোর সময়েই হোটেলের ২০৬ নম্বর রুম থেকে দেবব্রত চক্রবর্তী ও সিরাজউদ্দিন মোল্লা নামে দু’জনকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। মেশিনের সাহায্যে নোট বান্ডিল করা হচ্ছিল। উপরে-নীচে কিছু আসল নোট রেখে মাঝে ঢোকানো হচ্ছিল জাল নোট। এমনকী, বাচ্চাদের খেলার জন্য যেসব নোট বিক্রি হয়, তাও ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। শনিবার দুপুরেই ওই টাকা হাতবদলের কথা ছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
পুলিস সূত্রে দাবি, ধৃত দু’জনের ফোন থেকে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তার প্রমাণ মিলেছে। কয়েকটি বিদেশি নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ কলও হয়েছে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য হাতে পেয়েছে তারা। তারপরই বসিরহাট পুলিস জেলা জোর তল্লাশি শুরু করেছে। তবে জেলার পুলিস সুপার হোসেন মেহেদি রহমান তদন্ত চলাকালীন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।