নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল ভূপতিনগর থানার দক্ষিণ বায়েন্দা গ্রামের এক স্কুলছাত্রী। দেড় বছর সংসার করার পর কোলে আসে আট মাসের কন্যা সন্তান। তারমধ্যেই অন্য এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া। রবিবার সেই প্রেমিকের সঙ্গে নতুন ঘরবাঁধার স্বপ্নে ঘর ভাঙল ওই নাবালিকা মা। একরত্তিকে নিয়ে এখন আতান্তরে পড়েছেন তার স্বামী। এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি ওই কিশোরী। বয়স মাত্র ১৭ বছর তিন মাস। স্ত্রী ও মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে স্বামী রোজগারের জন্য মুম্বইয়ে সোনার কাজে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে নতুন প্রেমে মজে বাপের বাড়ি ছেড়েছে ওই কিশোরী। রবিবার রাত ৮টা নাগাদ তাঁর মা আট মাসের নাতনি কোলে ভূপতিনগর থানায় হাজির হন। পুলিসের কাছে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার আর্জি জানান। মায়ের জন্য শিশুকন্যাটি কেঁদেই চলেছে। এই অবস্থায় অথৈ জলে পড়েছেন ওই প্রৌঢ়া ও তাঁর পরিবার। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ওই কিশোরী পটাশপুর থানার বামুনবাড় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছে। আমরা তার খোঁজ পেয়েছি। মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।’
Advertisement
জানা গিয়েছে, মুগবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন দক্ষিণ বায়েন্দা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে জুখিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁটাপুকুরিয়া গ্রামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দেড় বছর আগে বাড়ি থকে পালিয়ে গিয়ে ওই যুবককে বিয়ে করে। তখনও নাবালিকা ছিল সে। তাদের এক কন্যা সন্তান হয়। স্বামী মুম্বইয়ে সোনার কাজ করেন। শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও মেয়েকে রেখে ওই যুবক মাস খানেক আগে মুম্বই রওনা দেন। এদিকে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ওই কিশোরী আবার নতুন প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন আগে হেঁড়িয়া মেলায় পটাশপুর থানার সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের বামুনবাড় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। সেখানেই পরস্পরের মধ্যে ফোন নম্বর আদান প্রদান হয়। দু’জনের যোগাযোগ আরও বাড়ে। রবিবার ওই কিশোরী কন্যাসন্তানকে ছেড়ে নতুন প্রেমিকের হাত ধরে তার বাড়িতে পৌঁছে যায়।
বিবাহিত ওই নাবালিকার মা বলেন, ‘দেড় বছর আগে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় মেয়ে বিয়ে করেছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও ফেরাতে পারিনি। সেই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলাম। তারপর আট মাসের নাতনিকে ছেড়ে আবার মেয়ে অন্যজনের প্রেমে পড়ে ঘর ছাড়বে, এটা ভাবতেও পারিনি। এখন নাতনিকে নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়েছি। প্রতিনিয়ত মায়ের খোঁজ করছে। দেড় বছর আগে অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিলে হয়তো আজ এরকম আরও একটি অন্যায় দেখতে হতো না।’
বিবাহিত ওই নাবালিকার মা বলেন, ‘দেড় বছর আগে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় মেয়ে বিয়ে করেছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও ফেরাতে পারিনি। সেই সম্পর্ক মেনে নিয়েছিলাম। তারপর আট মাসের নাতনিকে ছেড়ে আবার মেয়ে অন্যজনের প্রেমে পড়ে ঘর ছাড়বে, এটা ভাবতেও পারিনি। এখন নাতনিকে নিয়ে আমরা সমস্যায় পড়েছি। প্রতিনিয়ত মায়ের খোঁজ করছে। দেড় বছর আগে অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিলে হয়তো আজ এরকম আরও একটি অন্যায় দেখতে হতো না।’



