Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুকুর, জমি দখলের অভিযোগ সত্ত্বেও উদাসীন পুলিস, প্রশাসন

পুকুর, জমি দখলের অভিযোগ সত্ত্বেও উদাসীন পুলিস, প্রশাসন
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বেআইনই আইন কাঁকসায়। নির্বিচারে পুকুর ভরাটের অভিযোগ যেমন রয়েছে। তেমনি রয়েছে সরকারি জমির রেকর্ড পরিবর্তন করে দখলের ভূরি ভূরি অভিযোগ। এমনকী আদিবাসীদের খেলার মাঠ দখল করে পেট্রল পাম্প করার চেষ্টার অভিযোগও এসেছে। বেনিয়মের পাহাড়ে জমছে কাঁকসায়। মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পর আসানসোল দুর্গাপুরে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কিছুটা পদক্ষেপ করা হলেও ব্যতিক্রম কাঁকসা। বিভিন্ন দপ্তরে বেনিয়মের অভিযোগ জমা পড়লেও এখনও কোনও কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে আক্ষেপ এলাকাবাসীর। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাফিয়ারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধমকের পর অন্যান্য প্রান্তে বেনিয়মে লাগাম পড়লেও কাঁকসার চরিত্র বদল হয়নি। উল্টে যাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন, তাঁদেরই পড়তে হচ্ছে হুমকির মুখে।
Advertisement
এ নিয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতিটি অভিযোগের গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এফআইআর করা হয়। 
শীতের পানাগড় একটা সময়ে ঠান্ডায় টেক্কা দিত দার্জিলিংকেও। পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, এর একটি কারণ যেমন কর্কটক্রান্তি রেখা এই এলাকার উপর দিয়ে যাওয়া। তেমনি একসময়ে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল জলাশয়। যা এলাকার পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে বড় ভূমিকা নিত। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে পানাগড় শিল্পতালুকের ক্রমশ বিকাশ হয়েছে। জমির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। যার জেরে এলাকার জমি হাঙরদের নজর পড়ে জলাশয়গুলির উপর। বিভিন্ন সময়ে একের পর এক জলাশয় ভরাট হতে থাকে। পানাগড়ের সচেতন নাগরিকরা বার বার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। অনেক সময়ে চাপে পড়ে মাফিয়ারা পুকুর ভরাট বন্ধ রেখেছে। খুব বেশি হলে পুকুর থেকে মাটি তোলা হয়েছে। তার বেশি পদক্ষেপ হয়নি পানাগড়, কাঁকসা এলাকায়। এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও নয়। আসানসোলের দুই বড় জমি মাফিয়াকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্নিংয়ের পর কাঁকসার আইসি কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে গেলেও কোনও মাফিয়াকে এখনও পর্যন্ত জেলের ভাত খেতে হয়নি। পুলিসের পদক্ষেপ তাই আসানসোলের বড় মাফিয়ারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করলেও কাঁকসায় নেই কোনও নিয়ন্ত্রণ। প্রশাসনের শীর্ষকর্ত্রীর ধমকের পরও পানাগড়-দুবরাজপুর রাজ্য সড়কের উপর বেলডাঙায় পুকুর ভরাট করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরও প্রশাসন পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েই দায় সেরেছে। একই ভাবে বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের রঘুনাথপুরে ১৪ একর খাস জমির রেকর্ড পাল্টে জঙ্গলের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। আদিবাসীরা বিডিও, বিএলআরও অফিসে লিখিত অভিযোগ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও এফআইআর করা হয়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রভাবশালীদের একটি অংশ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। তার জেরেই কি এই প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা, উঠছে প্রশ্ন। 
পরিবেশপ্রেমী প্রকাশ দাস বলেন, নির্বিচারে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করছিলাম। প্রয়াগপুরে ৫২৩ নম্বর দাগের পুকুর ভরাট হচ্ছিল। অভিযোগ করেছি। যার জেরে আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে। হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিবাদীদের। বিজেপি সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন, বেলডাঙায় পুকুর ভরাট নিয়ে লিখিত অভিযোগ করলাম। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ হল না। 
সম্পর্কিত সংবাদ