Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিকনিকের মরশুমে বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

পিকনিকের মরশুমে বন্যপ্রাণীর হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শীত পড়ে গিয়েছে তিস্তাপাড়ে। এবার পিকনিকের মরশুম শুরুর পালা। অনেকেই ডুয়ার্সে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বা নদীর পাড়ে পিকনিকের আসর জমান। কিন্তু যেভাবে পাকা ধানের লোভে রোজই জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতির দল, তাতেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে বনদপ্তরের। তারউপর এখন চিতাবাঘের প্রজননের সময়। ফলে তারাও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। চলতি বছরে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ডুয়ার্সে চিতাবাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে চারজনের। জখম অন্তত ২৫ জন। স্বাভাবিকভাবেই জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পিকনিক নিয়ে কার্যত ঘুম উধাও বনকর্তাদের। নেওয়া হচ্ছে একাধিক সতর্কতা। 
Advertisement
রবিবার জলপাইগুড়ির ডিএফও (টেরিটোরিয়াল) বিকাশ ভি বলেন, বারবার বলা হচ্ছে, কেউ জঙ্গলে ঢুকবেন না। তবুও অনেকে চুরি করে জঙ্গলে ঢুকছেন। তারই জেরে বন্যপ্রাণীর হামলার মুখে পড়ে প্রাণ হারাতে হচ্ছে তাঁদের। এছাড়াও জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের তরফে প্রচারও চলছে। সন্ধ্যার পর চা বাগান এলাকাতেও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। 
কয়েকদিন আগেই বনদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জঙ্গলে ঘাস কাটতে ঢুকে বাইসনের হামলায় ডুয়ার্সের খুট্টিমারি বিটের সাউথ মোরাঘাট কম্পার্টমেন্টে মৃত্যু হয় একজনের। গুরুতর জখম হন আরও একজন। অন্যদিকে, সম্প্রতি কলাবাড়ি এলাকায় একইদিনে চিতাবাঘের হামলার মুখে পড়েন দু’জন। তাঁরাও গুরুতর জখম হন। এরসঙ্গে হাতির হানায় মৃত্যু তো আছেই। পরপর এ ধরনের ঘটনায় পিকনিকের দল নিয়ে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বনদপ্তরের। 
লাটাগুড়ির রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত বলেন, ফরেস্টের জমিতে আমরা কোনও পিকনিক করতে দেব না। রান্নার গন্ধে হাতির দল চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বিপদ হতে পারে। জঙ্গলের ধারেকাছে কেউ যাতে পিকনিক না করে, সেব্যাপারে বনদপ্তর নজরদারি চালাচ্ছে। ক্যুইক রেসপন্স টিমকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। 
গজলডোবায় তিস্তা থেকে ধূপগুড়িতে জলঢাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন বেশ কয়েকটি হাতির দল রয়েছে। বনকর্তাদের দাবি, প্রতিটি দলেই রয়েছে একাধিক শাবক। ফলে মা-হাতিরা এ সময় খুবই স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকে। কোনওভাবে সামনে কেউ পড়ে গেলে তাঁর প্রাণ সংশয় ঘটতে পারে। তাছাড়া প্রজননের আগে চিতাবাঘ আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ফলে সামনে কেউ পড়ে গেলে তাঁরও বিপদ অনিবার্য। এ কারণেই বনবস্তি ও চা বাগান এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, চা বাগান এলাকায় সকাল-সন্ধ্যায় শিশুদের একা না ছাড়ার জন্য প্রচার চলছে। চিতাবাঘের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বসানো হচ্ছে ক্যামেরা। কিউআরটি দলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ড্রোনের সাহায্যে হাতির দলের উপর নজর রাখা হচ্ছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ