Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাক মদতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় জালনোট তৈরির কারখানা

পাক মদতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় জালনোট তৈরির কারখানা
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সুখেন্দু পাল  বর্ধমান: হাসিনা জমানায় পাকিস্তান থেকে জালনোট বাংলাদেশে ঢুকত। সেখান থেকে তা বিভিন্ন করিডর দিয়ে এদেশে আনা হতো। করাচি বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কন্টেনার থেকে বহুবার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। এখন দিন বদলে গিয়েছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ইউনুস জমানায় এরাজ্যের সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়া, রাজশাহি, চাপাই নবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় অত্যাধুনিক মেশিনে জালনোট তৈরি হচ্ছে। আধিকারিকদের দাবি, আগেও বাংলাদেশে জালনোট তৈরি হতো। কিন্তু ‘সুপার ফাইন’ নোট সেদেশ তৈরি হতো না। এধরনের নোট তৈরির জন্য উন্নতমানের কাগজ এবং মেশিন দরকার হয়। বাংলাদেশে তা ছিল না। এখন পাকিস্তানের গুপ্তচরদের মদতে বাংলাদেশে সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। 
Advertisement
গত ৩ডিসেম্বর মালদহের কালিয়াচক থেকে দু’লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার হয়। এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়। ধৃতের বাড়ি দিল্লিতে। এছাড়া রাজ্যে আরও কয়েকটি জায়গা থেকে জালনোট সহ কয়েকজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার হয়। তাদের জেরা করে গোয়েন্দারা এমন তথ্য পেয়েছেন। দেশের অর্থনীতিকে ধাক্কা দিতে বিপুল পরিমাণ জালনোট ঢোকানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেইমতো গোয়েন্দারাও প্রস্ততি নিয়েছেন। মালদহ, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলার করিডরগুলিতে গোয়েন্দাদের বিশেষ দল ওঁত পেতেছে। 
এক আধিকারিক বলেন, আগে বাংলাদেশ পুলিসও জালনোটের বিরুদ্ধে অভিযান চালাত। তিন বছর আগে পাকিস্তান থেকে আসা একটি কন্টেনার থেকে চার কোটি টাকার জালনোট উদ্ধার করে। সিন্ডিকেট ভাঙতে একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের তারা ইনপুট দেয়। এখন বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান যৌথভাবেই জালনোট তৈরি করছে। এদেশের দিল্লি, তেলেঙ্গানা, অন্ধপ্রদেশ এবং রাজস্থানের অবৈধ কারবারিদের সঙ্গে তারা হাত মিলিয়েছে। দিল্লির এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা চক্রের কয়েকজনের নাম জেনেছেন। 
আধিকারিকদের দাবি, এখন পাচারকারীরা জলের দরে জালনোট বিক্রি করছে। একসময় এক লক্ষ টাকার জালনোট তারা ৪৫-৫০হাজার টাকায় তারা বিক্রি করত। এখন তা ২০-২৫হাজার টাকাতেই পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০টাকার নোট তারা বেশি সংখ্যায় জাল করছে। দেশের সমস্ত প্রান্তে জালনোট ছড়িয়ে দেওয়ার টার্গেট নিয়েছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা। সেকারণেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেই কারখানা গড়ে তুলেছে। আর এক আধিকারিক বলেন, যে কোনও ছোট ঘরেই জালনোট তৈরি করা যায়। ছোট মেশিনের মাধ্যমেই জালনোট তৈরি হয়। আসল নোটের ১২টি বৈশিষ্ট্য তারা নকল করে ফেলছে। সেকারণে আসলের সঙ্গে নকলের ফারাক বোঝাই অনেকের পক্ষে দায় হয়ে উঠছে। আগে কালো কারবারে জালনোট ব্যবহার করা হতো। এখন ছোট ছোট বাজারগুলিতেও এধরনের জালনোট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটে আনসারুল্লা বাংলা টিম বা অন্য জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা রয়েছে কি না সেটাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ