Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর ঘট ভাসানে অবরুদ্ধ কৃষ্ণনগর

পুজোর ঘট ভাসানে অবরুদ্ধ কৃষ্ণনগর
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সোমবার জগদ্ধাত্রীর ঘট ভাসানকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর শহর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে গেল। ঘট ভাসানের শোভাযাত্রা দেখতে কৃষ্ণনগরের হাই স্ট্রিট চত্বর দর্শনার্থীর ভিড়ে উপচে পড়ে। বিভিন্ন পুজো কমিটির রকমারি ট্যাবলো, ঢাক, তাসা শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। যা দেখতে উৎসবপ্রেমী জনতা ভিড় জমান কৃষ্ণনগরের রাস্তায়। ভিড়ের কারণেই ঘট ভাসান প্রক্রিয়া গতি কমে যায়। ঘট ভাসান শেষ হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। যার ফলে সোমবার রাতে রাতে সাঙের ভাসান শুরু হতেও দেরী হয়। সব মিলিয়ে বলাবাহুল্য কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী ভাসান এ বছরও কার্যত অসম্ভব। প্রথম দিনের ভাসানের মতো দ্বিতীয় দিনের ভার্সনেও পুলিসের তরফ থেকে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
Advertisement
সোমবার নির্ধারিত সময়ে কয়েক ঘণ্টা বাদেই শুরু হয় কৃষ্ণনগর শহরে ঐতিহ্যশালী ঘট ভাসান। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ করে এই ভাসান প্রক্রিয়া শুরু হয়। নুড়িপাড়া বারোয়ারি প্রথম ঘট নিয়ে বেরয়। তারপর, একে একে কাঁঠালপোতা বারোয়ারি, হাতারপাড়া বারোয়ারি, বেলেডাঙ্গা বারোয়ারি সহ বিভিন্ন পুজো কমিটি ট্যাবলো নিয়ে শোভাযাত্রায় সামিল হয়। শোভাযাত্রার মিছিলে বিদেশীনিদের আনা হয়, নৃত্য পরিবেশন করার জন্য। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক বার্তা তুলে ধরা হয় ট্যাবলোর মাধ্যমে। সেইসঙ্গে বহু ঢাক ও তাসাও ছিল। পুলিসের অনুমিত প্রাপ্ত ২২টি পুজো কমিটি এদিন ঘট নিয়ে বেরোয়। প্রত্যেকেই ঘট নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধাঁচের পালকি তৈরি করে। এমনকী পুরুলিয়া থেকে ছৌ নাচ করার দল শামিল হয় ঘট ভাসানের শোভাযাত্রায়। যা শেষ হতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা বেজে যায়। রাত দশটা থেকে শুরু হয় সাঙের প্রতিমার ভাসান। যা শান্তিপূর্ণ করতে পুলিস তৎপর ছিল। শুধু হাই স্ট্রিট চত্বরেই শতাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। সন্ধ্যার দিক যে ভাসানের জন্য বেরোনো লরির প্রতিমাকে পোস্ট অফিস মোড়, সদরের মোড় ও এভি স্কুল মোড় দিয়ে রাজবাড়ির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার মাকওয়ানা মিটকুমার সঞ্জয় কুমার বলেন, আমরা শহরের ৪২টি গলিকে নির্দিষ্ট করেছি। যাতে শহরের অলিগলিতে কোনো ঝামেলা না হয়। সেখানে পুলিস ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভাসানেও অতিরিক্ত পুলিস ফোর্স থাকবে। 
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা নিরঞ্জনের সঙ্গেই ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঘট ভাসানের ইতিহাস। রাতের বেলা প্রতিমা নিরঞ্জনের থেকে বিচ্ছিন্ন হতেই কৃষ্ণনগরের এই ঘট ভাসান নিজস্ব রূপ পেয়েছে। অথচ ষাটের দশকের পর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল কৃষ্ণনগরের বুক থেকে। ১৯৯৪ সাল নাগাদ থেকে ফের তা চালু হয়েছে। ঘট বিসর্জনকে কেন্দ্র করে। কৃষ্ণনগরের গোলাপট্টি বারোয়ারি এই প্রথা চালু করে। শোনা যায়, আগে প্রতিমার সঙ্গেই ঘট বিসর্জন হতো। কিন্তু সত্তর, আশির দশকে বিসর্জনের সময় পুজো কমিটিগুলোর মধ্যে ব্যাপক মারপিট হতো। ঠাকুর ভাসানে লাগত রক্তের দাগ। ১৯৯৪ সালে প্রতিমা নিরঞ্জনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু তখন গোলাপট্টি বারোয়ারি প্রতিমার বদলে দিনের বেলা শোভাযাত্রা করে ঘট নিয়ে ভাসানে বেরিয়ে পড়ে। কমিটির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছিল প্রশাসনও। তারপর ধীরে ধীরে বাকি পুজো কমিটিরগুলোও দিনের বেলা ঘট ভাসান শুরু করে।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ