Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেঁয়াজের দাম পেতে চাষিদের কম খরচে সংরক্ষণ শেখাচ্ছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর

পেঁয়াজের দাম পেতে চাষিদের কম খরচে সংরক্ষণ শেখাচ্ছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা,  পুরুলিয়া: পেঁয়াজের চড়া দামের ঝাঁঝ থেকে বাসিন্দাদের রক্ষা করতে প্রাচীন রীতি মেনে পেঁয়াজ সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে উদ্যানপালন দপ্তর। সেই সঙ্গে দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সংরক্ষণ করা হলে চাষিদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করবে দপ্তর। উদ্যানপালন দপ্তরের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লক এলাকাতে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। 
Advertisement
উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরের একাধিক সময় চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হয় বাসিন্দাদের। এলাকায় যেটুকু পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, তা ঠিকমতো সংরক্ষণ করা যায় না বলে কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন বাসিন্দারা। পরে ভিন রাজ্য থেকে আসা পেঁয়াজ চড়া দামে তাঁদের কিনতে হয়। কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় পুরুলিয়া জেলাতে দীর্ঘদিনের প্রাচীন পদ্ধতি মেনে পেঁয়াজ সংরক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে চাষিদের উৎসাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয় দপ্তরের পক্ষ থেকে।  জেলাতে উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর কৃষ্ণেন্দু নন্দন বলেন, স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে। মোট এক লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাষিদের ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষেত্রে প্রাচীন রীতিমতো পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৩০ ফুট লম্বা এবং ২৫ ফুট চওড়া একটি বাঁশের ঘর তৈরি করতে হবে। উপরে অ্যাসবেস্টসের অথবা টিনের সিটের ছাউনি দিতে হবে। সেই সঙ্গে ঘরের ভেতরে বাঁশ দিয়ে পেঁয়াজগুলি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি এ ধরনের পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বাঁশের ঘর তৈরি হয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে প্রাকৃতিক উপায়ে পেঁয়াজগুলি বেশ কয়েক মাস সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফসল ওঠার সময় চাষিরা পেঁয়াজের দাম ঠিকমতো পান না। সেসময় বাজারে পেঁয়াজের দাম কম থাকে। তাই এই স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা জেলায় কার্যকরী হয়েছে। ফসল তোলার পর চার থেকে পাঁচ মাস পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারলেই তা বাজারে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। তার আগে ভালো দাম পেলে চাষিরা বিক্রি করে দেন। এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন আরশা থানার চিপিডি গ্রামের বাসিন্দা শশধর মাহাত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণও পেয়েছিলাম সেই সঙ্গে ভর্তুকির টাকা পেতেও কোনও সমস্যা হয়নি। গত বছর ৫ কুইন্টালের মতো পেঁয়াজ উৎপাদন করেছিলাম। এবার অনেকটাই বেশি চাষ করব। কারণ এবার আর রাখার সমস্যা নেই। আগে পেঁয়াজ ওঠার পরই বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতাম। মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা পেতাম। বেশি জায়গাও ছিল না। রাখলে নষ্ট হয়ে যেত। অল্প কিছু ঘরে রাখতে পারতাম। নতুন বাঁশের এই ঘর তৈরি করার ফলে আর কোনও সমস্যাই হয়নি। প্রায় চার মাস আরামে রাখা যায়। তাছাড়া ওই বাঁশের মাচাতে পেঁয়াজ যেমন উপরে ঝোলানো থাকে, তেমনি নীচে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের সাহায্যে দেশি মুরগিও প্রতিপালন করা হয়। পেঁয়াজ রাখতে পেরে প্রায় চার গুণেরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারি।
সম্পর্কিত সংবাদ