Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজো হয়নি সোনমুখীর স্কুলে  তালাবন্দি প্রধানশিক্ষক

পুজো হয়নি সোনমুখীর স্কুলে  তালাবন্দি প্রধানশিক্ষক
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো হয়নি। তারই প্রতিবাদে বুধবার সোনামুখীর বাসুদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তালাবন্দি করে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখালেন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেননি। এব্যাপারে অভিভাবকদেরও কিছু জানানো হয়নি। এমনকী সাধারণতন্ত্র দিবসেও জাতীয় পতাকা তোলা হয়নি।  এবিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দেননি। সেই জন্য আমরা তাঁকে স্কুলের ভিতরে রেখে গেটে তালা দিই। ঘণ্টা খানেক পর তালা খুলে দেওয়া হয়। 
Advertisement
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিদ্যালয়ের সহশিক্ষক নির্মল সরকার বলেন, আমি এই বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে এসেছি। তাই পুজোর ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। যা বলার প্রধান শিক্ষক বলবেন।
বাঁকুড়ার ডিআই(প্রাইমারি) জগবন্ধু মুখোপাধ্যায় বলেন, বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো করতে হবে এমন কোনও সরকারি নির্দেশনামা নেই। তবে শিক্ষকদের যেহেতু অভিভাবক ও পড়ুয়াদের নিয়ে চলতে হয়, হিন্দুপ্রধান সমস্ত এলাকাতেই যেহেতু সরস্বতী পুজো হয়, তাই স্থানীয়দের আবেগকে গুরত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ফি বছর সরস্বতী পুজো হয়। কিন্তু, এবছর তা হয়নি। পুজোর দিন খুদে পড়ুয়ারা সকাল থেকে উপোস করলেও পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেনি। তারা পরে গ্রামের অন্য পুজো মণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি দেয়। মঙ্গলবার এনিয়ে প্রধান শিক্ষককে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি কোনও সদুত্তর দেননি। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তিনি দেখা করেননি। সেই জন্য এদিন উনি বিদ্যালয়ে আসার পরেই বিদ্যালয়ের গেটে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়। পরে ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে তালা খোলা হয়। 
প্রসঙ্গত, বিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো না হওয়ায় সোমবার বিষ্ণুপুরের যমুনাবাঁধ কলোনি প্রাইমারি স্কুলে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান। পরের দিন বিদ্যালয়ে এলে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। একইভাবে সোনামুখীর বাসুদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার প্রধান শিক্ষক স্কুলে ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে অভিভাকরা বিক্ষোভ দেখান। পুজো না করার ব্যাপারে কোনও সদুত্তর না মেলায় তাঁকে ক্লাসরুমের ভিতরে রেখে গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়। গেটে তালা থাকার কারণে সহশিক্ষকও বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। পরে অবশ্য তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে তালা খুলে দেন। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, এবার ২৬ জানুয়ারির দিন সমস্ত বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়েছিল। কিন্তু, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা হয়নি। -নিজস্ব চিlত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ