Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ফুড ডেলিভারিতেই আটকে ভারতীয় স্টার্ট-আপ, এগিয়ে যাচ্ছে চীন: পীযূষ

ফুড ডেলিভারিতেই আটকে ভারতীয় স্টার্ট-আপ, এগিয়ে যাচ্ছে চীন: পীযূষ
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: চীন বিদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি প্রযুক্তি, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স, সেমি কন্ডাক্টর ও এআইয়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে নজর দিয়ে তড়তড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও ভারতে স্টার্ট-আপের নামে তৈরি হচ্ছে একের পর এক ফুড ডেলিভারি, বেটিং ও ফ্যান্টাসি স্পোর্টস অ্যাপ। দেশজুড়ে এই প্রবণতার কড়া সমালোচনা করলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ‘স্টার্ট-আপ মহাকুম্ভ’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বৃহস্পতিবার তাঁর আক্ষেপ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দিকে নজর না দিয়ে দেশে কি শুধুই কম পয়সার ‘ফরমায়েশ খাটা’র কাজ হবে? গোয়েলের কথায়, ‘আমাদের কি আইসক্রিম বা চিপসই বানাতে হবে? দোকানদারিই করতে হবে!’ বাণিজ্যমন্ত্রীর এধরনের মম্তব্যের আবার কড়া সমালোচনা করেছেন ‘জেপ্টো’র সিইও আদিত পালিচা এবং ইনফোসিসের প্রাক্তন কর্তা মোহনদাস পাই। পালিচার কটাক্ষ, মুখে সমালোচনা করা খুব সহজ। কিন্তু বাস্তবে এইসব সংস্থার হাত ধরেই কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। আসছে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও। ভারতীয় উদ্ভাবনে ‘মিরাকল’ তৈরি হচ্ছে। পাই আবার সুর চড়িয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বিরুদ্ধেও। তাঁর তোপ, বহু বছর ধরে অ্যাঞ্জেল ট্যাক্সের নামে স্টার্ট-আপগুলিকে হেনস্তা করা হচ্ছে।

Advertisement

সরকারি তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ হাবে পরিণত হয়েছে। ১০০ কোটি ডলার মূল্যের সংস্থার সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে। সরকার স্বীকৃত মোট স্টার্ট-আপের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৫৭ হাজার। কিন্তু স্টার্ট-আপগুলির অভিমুখ ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দীহান বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই সূত্রেই গোয়েলের প্রশ্ন, ‘আমরা কি শুধুই ডেলিভারি বয় বা ডেলিভারি গার্ল হয়ে খুশি? এটাই কি ভারতের নিয়তি...এগুলিকে ব্যবসা বলা যায়, কিন্তু স্টার্ট-আপ বলা চলে না।’ সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতে আজ কারা স্টার্ট-আপ সংস্থা? আমাদের নজর ফুড ডেলিভারি অ্যাপ বানানোর দিকে। বেকার যুবসমাজকে আমরা সস্তার শ্রমিকে পরিণত করছি। যাতে ধনীরা বাড়ি থেকে না বেরিয়েই হাতের কাছে খাবারের জোগান পেয়ে যান।’ বাস্তবটা উপলব্ধি করার পরামর্শ দিয়ে গোয়েল বলেন, ‘শুমাত্র ই-কমার্সে আটকে না থেকে উদ্ভাবনের দিকে নজর দিতে হবে। ভারতে ডিপ-টেকনোলজি স্টার্ট-আপ হাতে গোনা। মাত্র হাজার খানেক। সামগ্রিকভাবে এরকম অবস্থাটা খুবই হতাশাজনক। নতুন স্টার্ট-আপগুলির দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ