Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাইপলাইন বসাতে দিতে হয়েছে টাকা আড়ষার ‘সজল’ গ্রামেই তীব্র জলকষ্ট 

পাইপলাইন বসাতে দিতে হয়েছে টাকা আড়ষার ‘সজল’ গ্রামেই তীব্র জলকষ্ট 
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আড়ষা: খাতায় কলমে ‘সজল’ গ্রাম! গ্রামের ১০০ শতাংশ বাড়িতেই জলস্বপ্ন প্রকল্পের নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি পোর্টালের তথ্য বলছে, গ্রামে জলের কষ্ট ঘুচে গিয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কল থাকলেও অধিকাংশ পরিবারই জল পান না। অর্থাৎ, জলকষ্ট রয়েই গিয়েছে। 
Advertisement
পুরুলিয়া জেলার আড়ষা ব্লকের বেলডি গ্রামে ১০০ শতাংশ পরিবারই জল পেয়েছেন বলে দাবি প্রশাসনের। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পোর্টালজুড়ে রয়েছে সেই সাফল্যের কথাই। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। পুরুলিয়া শহর থেকে সোনাইজুড়ি মোড় হয়ে যে রাস্তাটি আড়ষার দিকে যাচ্ছে, সেই রাস্তা ধরে গেলেই পড়ে বেলডি গ্রাম। বাসিন্দারা ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের জল পাচ্ছেন কি না জিজ্ঞেস করতেই তেড়েফুঁড়ে উঠলেন গ্রামের বাসিন্দা নিবারণ মাহাত। হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলেন নিজের মাটির বাড়িতে। তারপর জলের পাইপের ট্যাপ খুলে বললেন, ‘দেখুন, কেমন জল পড়ছে!’ ততক্ষণে নিবারণবাবুর বাড়ির বাইরে জড়ো হয়েছেন গ্রামেরই বাসিন্দা বুদ্ধেশ্বর মাহাত, উজ্জ্বলা মাহাত, অনাদি মাহাত, সন্ধ্যা পরমাণিকরা। প্রত্যেকেই টেনে নিয়ে গেলেন নিজেদের বাড়িতে। প্রত্যেকের বাড়িতেই জলের নল পৌঁছে গিয়েছে, কিন্তু জল পৌঁছয়নি। 
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গ্রামে প্রায় সাতশো পরিবার রয়েছে। প্রায় বছর দুয়েক আগেই প্রত্যেকের বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ দিয়েছে সরকার। যেটা তাঁদের বিনামূল্যে পাওয়ার কথা, তার জন্য ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু কলের ট্যাপ দিয়ে জল পড়ে না। তবে, মূল রাস্তা বরাবর জলের প্রধান পাইপ যাওয়ায়, রাস্তার দু’ধারে যাঁদের বাড়ি, তাঁরাই জল পান। বাকি বাসিন্দারা বঞ্চিত হচ্ছেন। কেন এই অবস্থা? বাসিন্দাদেরই একাংশ শোনাচ্ছিলেন, ঢেউ খেলানো গ্রামের কোনও অংশ উঁচু, কোনও অংশ নিচু। ঠিকাদাররা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে এবং দায়সারা কাজ করেছেন। একটু উঁচু জায়গায় যাঁদের বাড়ি, তাঁরা জল পান না। কারও বাড়ির কলে আবার জল পড়লেও তা সরু সুতোর মতো! এক বালতি জল ভর্তি হতে এক ঘণ্টা লেগে যায়! অধিকাংশ পরিবারই এই বঞ্চনার শিকার।
তবে, বেলডি পঞ্চায়েতের শুধুমাত্র বেলডি গ্রাম নয়, সমস্ত গ্রামই ‘সজল’। কিন্তু তা ওই খাতায় কলমেই! গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান গীতারানি রজক বলেন, বেলডি গ্রাম শুধুমাত্র নয়, পঞ্চায়েত এলাকার অধিকাংশ গ্রামের বাসিন্দারাই জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাঁরা জল পাচ্ছেন, তাঁরা আবার জল অপচয় করছেন। অনেকে আবার টুলু পাম্প দিয়ে জল বাড়ির ট্যাঙ্কে ভরছেন। এনিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
সম্পর্কিত সংবাদ