নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে এবার পুরুলিয়া শহরেও পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। আগামী সোমবার সেই প্রকল্পের সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে শনিবার গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার তরফে শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কারবালা মাঠে একটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, রান্না করতে করতে অনেক সময় গ্যাস শেষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত মজুত সিলিন্ডার না থাকলে মহা বিপদে পড়তে হয় গৃহকর্ত্রীকে। এই সমস্যার মুশকিল আসান হতে চলেছে শীঘ্রই।
পুরসভার কাউন্সিলার বিভাসরঞ্জন দাস, সুনয় কবিরাজ বলেন, পুরুলিয়া শহরের সব ওয়ার্ডেই বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। সোমবার থেকে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে শহরের বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। আর গ্যাস বুকিং করে সিলিন্ডারের জন্য হাপিত্যেস করে অপেক্ষা করতে হবে না। তাছাড়া দোতলা বা তিনতলায় সিলিন্ডার তোলা-নামানোর সমস্যায় পড়তে হবে না।
গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সংযোগ পেতে গ্রাহককে ছ’হাজার টাকা দিতে হবে। তবে এই টাকা ফেরতযোগ্য। যাঁরা এক ধাক্কায় ছ’হাজার টাকা দিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য মাসে মাসে ৫০০ টাকা করে এক বছর ধরে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। গ্রাহককে একটি মিটার দেওয়া হবে। গ্যাস খরচের হিসেব মিলবে মিটারের কাঁটায়। সেই অনুযায়ী বিল দিতে হবে গ্রাহককে। তবে, প্রতি মাসে বিল দেওয়ার ঝঞ্ঝাট নেই। বিল আসে প্রতি দু’মাসে। সাধারণ এলপিজির তুলনায় এই গ্যাস ১৫ শতাংশ সস্তা। গ্রাহকদের আর্থিক ভাবেও অনেক সাশ্রয় হবে। তাছাড়া, এলপিজি সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেলেও নীচে কিছু গ্যাস রয়ে যায়, যা কাজে আসে না। পাইপলাইনের সংযোগে সে সবের বালাই নেই।
সংস্থার এক কর্তা জানান, এই ‘পাইপড ন্যাচারাল গ্যাসে’ দুর্ঘটনার আশঙ্কা সাধারণ এলপিজির তুলনায় অনেক কম। এলপিজি গ্যাস লিক হলে নীচে থিতু হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে পিএনজি অনেক হালকা হওয়ায় জানলার ফাঁক দিয়ে বা ঘুলঘুলি দিয়ে বেরিয়ে বাতাসে মিশে যায়। তাঁর সংযোজন, পাইপড গ্যাসের ক্ষেত্রে চোখের সামনে মিটারের কাঁটা থাকায় গ্যাসের খরচ নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হবে।
জানা গিয়েছে, বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সংযোগ পেতে এখনও বছর খানেক অপেক্ষা করতে হবে। ধাপে ধাপে যেখানে যেমন পাইপলাইনের কাজ শেষ হবে, সেখানে এই পরিষেবা চালু করে দেবে কর্তৃপক্ষ।