Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২০টি খালের উপর এবং নদীর ৫০ ফুট নীচ দিয়ে পাইপলাইন, বজবজ থেকে ১২৩ কিমি পেরিয়ে সুন্দরবনে পানীয় জল

তারপর মন্দিরবাজার দিয়ে জলের দীর্ঘ পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুলতলি পর্যন্ত।

২০টি খালের উপর এবং নদীর ৫০ ফুট নীচ দিয়ে পাইপলাইন, বজবজ থেকে ১২৩ কিমি পেরিয়ে সুন্দরবনে পানীয় জল
  • ২৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বজবজের ডোঙারিয়া থেকে বিষ্ণুপুর হয়ে মগরাহাট। তারপর মন্দিরবাজার দিয়ে জলের দীর্ঘ পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুলতলি পর্যন্ত। লম্বা যাত্রাপথ। প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করেছে পাইপলাইন। এই পরিকল্পনার কথা কানে শুনলে মনে হবে অসাধ্য বিষয়। কিন্তু তা বাস্তবে করে দেখিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর।

Advertisement

এই দীর্ঘ পথে কমপক্ষে কুড়িটি ছোট ও মাঝারি আকারের খাল রয়েছে। খালের উপর ছোট ছোট সেতু বানিয়ে তার উপর দিয়ে পাইপ বসিয়ে একটার সঙ্গে একটা  সংযুক্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জলের পাইপ। তবে কাজ চলার সময় বড়সড় বিপত্তি শুরু হয় পেটকুলচাঁদ ব্রিজের কাছে আসার পর। এখানে বড় রকমের বাধার মুখোমুখি হয় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। মাকড়ি নদীর ওপারে পাইপলাইন নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা করে সেতু তৈরির কোনও সুযোগই এখানে নেই। তাই গঙ্গার নীচ দিয়ে যেমন মেট্রো নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেরকমই মাকড়ি নদীর নীচ দিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা পাতলেন পাইপ। নিয়ে গেলেন জলের লাইন।
দু’বছরের একটু বেশি সময় লেগেছে এই কাজ করতে। তারপর কুলতলির ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য গুড়গুড়িয়া মৌজার বাসিন্দারা পেলেন পরিস্রুত পানীয় জল। এই ব্লকের আরও কয়েকটি জায়গায় পাইপ বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। সেখানকার মানুষও শীঘ্র জল পাবেন বলে জানা গিয়েছে। কুলতলির গ্রামে এতদিন টিউবওয়েল অথবা সাবমার্সিবল পাম্পই ছিল পানীয় জল পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু প্রতিবছরই গরম পড়ার পর জলস্তর নেমে যায়। টিউবওয়েল থেকে জল মেলে না। সমস্যায় জেরবার হতে হয় গ্রামবাসীদের। এবার গঙ্গার জল মেলায় সে সমস্যা থেকে মুক্তি।  
বজবজ থেকে গঙ্গার জল তুলে তা শোধন করে পাইপের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে কুলতলি। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে রাজ্য সরকার। সর্বত্রই কাজ চলছে। তবে বজবজ থেকে পাইপ পেতে জল সরবরাহ করার কাজ প্রথম থেকেই ছিল চ্যালেঞ্জের। কারণ সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ মোটেও সহজ ছিল না। ছিল অত্যন্ত দুরূহ। কিন্তু নিখুঁত পরিকল্পনায় সে কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। হাসি ফুটেছে প্রান্তিক গ্রামের মানুষের মুখে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ