নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: অবশেষে বীরভূমের মাটিতে শুরু হয়ে গেল আবাস যোজনায় গরিব উপভোক্তাদের সস্তায় বালি দেওয়ার বহুল চর্চিত পাইলট প্রজেক্ট। শুক্রবার থেকে সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিউড়ি ও রাজনগর- মূলত এই দু’টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে উপভোক্তাদের হাতে অত্যন্ত কম দামে বালি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল প্রশাসন। চলতি বাজার দরের চেয়ে অনেকটাই কমে, ট্রাক্টর পিছু অর্থাৎ ১০০ সিএফটি বালি মাত্র ১৫০০টাকার বিনিময়ে পাবেন আবাসের উপভোক্তারা, যা আগামী দিনে গোটা রাজ্যের বুকে একটি অনন্য ‘বীরভূম মডেল’ হতে চলেছে বলে দাবি আধিকারিকদের। তবে এই সুবিধা যাতে সর্বসাধারণ পায় তার দাবি উঠছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির প্রাপক এবং ‘আবাস প্লাস’-এর নতুন সমীক্ষায় নাম ওঠা উপভোক্তারাই এই বিশেষ সরকারি সুবিধা পাবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার থেকেই সরকারি উদ্যোগে বালি মজুতের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। সিউড়ির তিলপাড়া এলাকায় যেখানে আগে নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, আপাতত সেই ফাঁকা জায়গাটিকেই ‘স্টক ইয়ার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করছে প্রশাসন। বালি কারবারিদের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, জেলার বৈধ বালি খাদান মালিকদের থেকে বালি কিনে মজুত করা হচ্ছে। এই বালির যা ন্যায্য দাম, তা সরাসরি প্রশাসনের তরফেই ব্যবসায়ীদের মিটিয়ে দেওয়া হবে।
গত কয়েক বছরে জেলায় বালির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্যবসায়ীদের তরফে এক ট্রাক্টর বালির দাম সাড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছিল। যা কিনতে গিয়ে কার্যত কালঘাম ছুটছিল গরিব মানুষের। এই কালোবাজারি রুখতে এবং বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে কড়া নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিডিও, বিএলএলআরও এবং স্থানীয় থানার আইসিদের। যেহেতু প্রকৃত উপভোক্তাদের নামের তালিকা বিডিও-র কাছে রয়েছে, তাই সরাসরি তাঁদের কাছেই এই সস্তা বালি পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘আবাস উপভোক্তারা যাঁরা বালির অতিরিক্ত দামের কারণে এতদিন বাড়ি তৈরি করতে পারছিলেন না, তাঁদের কম দামে বালি দেওয়া হবে। এই পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে আগামী দিনে অন্যান্য এলাকাতেও এই সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে এই সরকারি ঘোষণার পর থেকেই জেলার জনমানসে পালটা প্রশ্ন উঠছে। জেলাবাসীর অভিযোগ, জেলার লক্ষ লক্ষ নিম্নবিত্ত মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সরকারি বাড়ি পাননি। মাথা গোঁজার একটু আশ্রয় তৈরি করতে তাঁরা নিজেদের সারাজীবনের সঞ্চিত পুঁজি বা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইট গাঁথছেন। বালি কিনতে গিয়ে চড়া দামের ছ্যাঁকা খেতে হচ্ছে তাঁদেরও। ফলে সরকারের এই সস্তা বালির সুবিধা কেন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সরকারি তালিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? কেন সাধারণ নিম্নবিত্তরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



