সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: খেত থেকে আলু তোলা শুরু হলেও দাম নেই। এমন অবস্থায় মাথায় বাজ পড়েছে আলু চাষিদের। জ্যাতি আলু তোলা শুরু হয়েছে। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকা প্রতি কেজি। এক গাড়ি অর্থাৎ ১০ কুইন্টাল আলুর দাম মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজারের মধ্যে। আর এই রকম দাম থাকলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে, বলেন কৃষকরা। গতবছর আলুর ভালো দাম পেয়েছিলেন কৃষকরা, কিন্তু এ বছর কেন এমন? কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর জলপাইগুড়ি জেলায় প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টরের উপর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ধূপগুড়িতেই আলু চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি আধিকারিক গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, এ বছর আলুর ভালো ফলন হয়েছে। আলুর ধসা পরিমাণও নেই। এমনকী চাষের পরিধিও বৃদ্ধি পেয়েছে। আলুর ভালো ফলন হওয়াতেই দাম কম, মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ধূপগুড়ির আলু ব্যবসায়ী রণজিৎ রায় বলেন, আলুর দাম নির্ভর করে দক্ষিণবঙ্গের আলুর ফলনের উপর। যদি দক্ষিণবঙ্গে আলুর ফলন কম হয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আলুর খেত নষ্ট হয়, তাহলে এখানকার আলুর চাহিদা বাড়ে এবং দাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছর উত্তর ও দক্ষিণ দুই জায়গায় আলুর ফলন ভালো হওয়ার কারণে আলুর দাম পড়ে গিয়েছে। এ বছর পোখরাজ আলুর দাম শুরুতে গাড়ি প্রতি দেড় লাখ টাকার উপর থাকলেও তা কমতে কমতে এখন ৬০ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। গত বছরেই এ সময় আলুর দাম ছিল এক লাখ টাকার উপর। আর আলুর দাম না পেলে মোটা টাকার লোকসান গুণতে হবে বলে দাবি কৃষকদের। ধূপগুড়ির কৃষক দেবাশিস রায়, সত্যেন রায় বলেন, আলুর বীজ সহ সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মজুরি সহ সবকিছু মিলে এক গাড়ি আলু ফলাতে খরচ হয়ে থাকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো। আর এই দাম পেলে লোকসান তো হবেই। ধূপগুড়ি আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবলু চৌধুরী বলেন, দাম বাড়বে কি না তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাই কম।



