নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়েছে অশোকনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্ধোধন। হরেক থিম ও বিভিন্ন দর্শনীয় মন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে শহর। বলা যায়, এ যেন থিমের প্রতিযোগিতা অশোকনগরে। পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা। থিমের পাশাপাশি মূর্তিতেও রয়েছে অভিনবত্ব। যা এবারের জগদ্ধাত্রী পুজোকে অন্যমাত্রা দিয়েছে অশোকনগরে।
কল্যাণগড় বাজারে নেতাজি বাগের পুজো এবার ৪৯তম বছরে পড়ল। তামিলনাড়ুর রঙ্গনাথস্বামী মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। মণ্ডপের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট। প্লাই বোর্ড এবং রঙের বাহারি কাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপকে। তবে মণ্ডপসজ্জার থেকেও এবার তারা চমক দিয়েছে জগদ্ধাত্রী প্রতিমায়। হাবড়ার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের অসামান্য শিল্প নৈপুণ্যে তৈরি মাতৃপ্রতিমা এবার নেতাজি বাগের পুজো মণ্ডপে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। পুজোর উদ্যোক্তা রাজু দত্ত বণিক বলেন, মায়ের মুখ তৈরি হয়েছে বেলের মালাই দিয়ে। থাইল্যান্ডের পাটকাঠি দিয়ে তৈরি হয়েছে মায়ের দেহ। শাড়ি তৈরি হয়েছে পেঁপে গাছের ছাল ও পাইন গাছের ফল দিয়ে। কোমরের বিছা তৈরি হয়েছে ঘাসফুল ব্যবহার করে। আর অস্ট্রেলিয়ার পিনুক গাছের পাপড়ি, আখরোট ফুলের পাপড়ি দিয়ে শিল্পী তৈরি করেছেন প্রতিমার নখ। এবার অসাধারণ শৈল্পিক জগদ্ধাত্রী প্রতিমা দেখতে এখানে ভিড় জমাবেন দর্শনার্থীরা।
রকেট মোড়ের নবোদয় সংঘের পুজো এবার ৩০ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ভাবনা ভিন্ন ধারার। মূলত পুরনো দিনের মানুষের জনজীবনকে তারা মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছে। থিমের মাধ্যমে আদিম মানুষের জনজীবন ও আদিম মানুষ থেকে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান মানুষের রূপান্তরকে ঘিরেই মণ্ডপসজ্জা। নারকেল গাছের ছাল, কদবেল গাছের অংশ সহ নারকেলের ছোবা ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হয়েছে মাতৃ প্রতিমা। পুজো কমিটির অন্যতম কর্তা দিবাকর চক্রবর্তী বলেন, প্রতি বছর আমাদের ভিন্ন ভাবনা থাকে। আমরা ডিজিটাল হলেও আদিম জনজীবন থেকে মানুষের জীবনযাত্রার বিবর্তনের দিকটি সবার জানা উচিত। মণ্ডপে প্রবেশ করলে মানুষ সেই জিনিসই চাক্ষুস করবেন। পাবেন অন্যরকম অনুভূতি।
এদিকে, কল্যাণগড়ের কয়াডাঙা নেতাজি সংঘের জগদ্ধাত্রী পুজোর এবার ৪৭তম বর্ষ। তাদের থিম ‘ময়ূর মহল’। মণ্ডপের ভিতরের অংশ শিল্পীর ভাবনায় তৈরি হয়েছে রাজবাড়ির আদলে। বাইরের অংশ ময়ূর মহল। জালপাতার সঙ্গে রঙের প্রলেপ দিয়ে তৈরি হয়েছে সুদৃশ্য ময়ূর। বাঁশ, কাঠের বাটাম ও কাপড় দিয়ে তৈরি মণ্ডপ। পুজোর উদ্যোক্তা শিবু দে বলেন, আমাদের প্রতিমা সাবেকি। প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষ আমাদের মণ্ডপে দেখতে আসেন মাকে দেখতে। এই বছর রূপমহল দেখতে উপচে পড়া ভিড় হবে।