নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাসত: বিজেপির বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠছে। কোথাও দলের অন্দরে, কোথাও বাইরে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। খড়দহে রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের ‘অত্যাচারী’ নেতার বাড়িতে বিজেপি নেতাদের আনাগোনার প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন বুথ সভাপতি। এই সংক্রান্ত ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে খড়দহে। লেলিনগড়ের ওই ভিডিয়ো ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের বহু অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বঙ্কিম বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতারা ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়েছিল। মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁরা সেই বাড়িতে পিকনিক করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বুথ সভাপতি প্রণব বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা সেখানে হাজির হয়ে প্রতিবাদ করেন। ঘটনার ভিডিয়ো তুলে রাখা হয়। প্রণববাবু বলেন, আমাদের মণ্ডলের সাধারণ সেক্রেটারি বঙ্কিম বিশ্বাস সহ চার পাঁচ জন দলের নেতা-কর্মী ওই অত্যাচারী তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। অথচ, ওই তৃণমূল নেতা আমাকে বন্দুক দেখিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিল। সাধারণ কর্মীদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। বঙ্কিম বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে পরিচিতরা একটা মিটিংয়ে জন্য ডেকেছিল। সেকারণে, আমি গিয়েছিলাম।
এদিকে, দেগঙ্গায় অধ্যাপক দম্পতির জমি দখলের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। জমির সামনের অংশ দখল করে অস্থায়ী কার্যালয় তৈরি হচ্ছে। বাঁশের খুঁটি পুঁতে শুরু হয়েছে নির্মাণ। টাঙানো হয়েছে বিজেপির পতাকাও। অভিযোগের তির দেগঙ্গার দুই দলীয় পদাধিকারীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে দেগঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি বারাসত পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছেন অধ্যাপক দম্পতি।
মৌমিতা রায় হুগলির একটি সরকারি কলেজে পড়ান। স্বামী অভিককুমার রায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কলকাতার ট্যাংরায় থাকেন তাঁরা। ২০০৮ সালে দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চ্যাংদানা গ্রামে ৪০ শতক জমি কেনেন এক ছাত্রের মাধ্যমে। সেই নারায়ণ চক্রবর্তী জমিটি দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ, রবিবার জমির সামনের অংশে বাঁশের খুঁটি পোঁতা শুরু হয়। তৈরি হতে থাকে পার্টি অফিস। অধ্যাপক দম্পতির নির্দেশে দেগঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন নারায়ণ। রবিবার অধ্যাপক দম্পতিও থানায় যান। পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন। অভিক রায় বলেন, জমির সামনে রাস্তা আছে। তাই সামনের অংশ দখল করে নির্মাণ করা ঠিক নয়। আমরা দেগঙ্গা থানা ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। দেগঙ্গার মণ্ডল সভাপতি চন্দন দাস বলেন, জমি দম্পতির হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ থাকলে দল এবং পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। জবরদখলের রাজনীতির পক্ষে বিজেপি নয়।