নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জামবনীর জঙ্গলপথে গভীর রাতে বেআইনি গোরু ও মোষ পাচার চলছেই। শনিবার ভোররাতে জামবনীর খাটপুরা এলাকায় ১০টি মোষ বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে পুলিস। এই ঘটনায় বিহারের ভোজপুর এলাকার কানহায়া সিং, ধনোজ কুমার জামবনী ব্লকের শেখ তাসির আলি ও আমজাদ খানকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে।
ঝাড়গ্রামে এসডিপিও শামীম বিশ্বাস বলেন, জেলার সীমানার পথে পিকআপ ভ্যানে করে গোরু ও মোষ পাচারের অভিযোগ আসছিল। জামবনীর জঙ্গল সংলগ্ন গ্ৰামীণ এলাকায় গতকাল রাতভর অভিযান চালানো হচ্ছিল। আটক পিকআপ ভ্যানে ছ’টি মোষ ও চারটি বাচ্চা ছিল। তাদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র ছিল না। মোষ পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের সীমানা পথ দিয়ে বালি, আলু, মাদকদ্রব্য, গোরু ও মোষ পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। পুলিসের লাগাতার অভিযানও চলছে। তল্লাশি অভিযানে চোরাচালান কারবারিরা ধরাও পড়েছে। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে পাচারকারীরা কৌশল অবলম্বন করছে। পিকআপ ভ্যানে গোরু ও মোষ পাচার জেলা পুলিসের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। ঝাড়গ্রামের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা রাজ্যের দীর্ঘ সীমানা রয়েছে। জেলার সীমানা লাগোয়া গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্ৰাম, জামবনী, বিনপুর-১ ও ২ ব্লকের সড়ক পথে ধারাবাহিকভাবে নাকা চেকিং হয়। চোরা চালানের অভিযোগ বাড়তে থাকায় জঙ্গল সংলগ্ন গ্ৰামীণ রাস্তাতেও অভিযান চলছে। শনিবার রাতে খবর পেয়ে জেলা পুলিসের বিশেষ টিম জামবনী এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিসের গাড়ি জঙ্গল পথে তাড়া করে পিকআপ ভ্যানটি ধরে ফেলে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পিকআপ ভ্যানটি ঝাড়খণ্ড হয়ে জামবনী ব্লকের বর্শলের পথ দিয়ে খাটপুরার দিকে আসছিল। পাচারকারীদের মধ্যে দু’জন বিহারের ও বাকি দু’জন জামবনীর কাপসিট এলাকার বাসিন্দা। পিকআপ ভ্যানে সাধারণত সব্জি নিয়ে যাওয়া হয়। সব্জি যাতে না পড়ে তার জন্য গাড়ির উপরে ত্রিপল দিয়ে শক্ত করে বাঁধা থাকে। বাইরে থেকে গাড়ির ভিতরে কি আছে সহজে বোঝা যায় না। জেলার এক পুলিস অফিসার বলেন, ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় গোরু ও মোষ পাচারের খবর আমাদের কাছে আসছিল। পাচারকারীরা জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তা ব্যবহার করছিল। সাধারণত সব্জি বহনের জন্য পিকআপ ভ্যানগুলি ব্যবহার করা হয়। পুলিসের চোখে ধুলো দিতে এখন এই গাড়িগুলি পাচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। শুক্রবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে মোষ বোঝাই পিকআপ ভ্যানটি আটক করা হয়।